বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরাজয়ের প্রলাপ বকছেন অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া বিএনপির একান্ত সিদ্ধান্ত।

মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলের বিআরটিসি ভবনে বিআরটিসির কর্মকর্তা ও ডিপো ম্যানেজারদের সঙ্গে সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘মহাসচিবের মুখে শোচনীয় ব্যর্থতা অসংলগ্ন প্রলাপ আমরা শুনতে পাচ্ছি। অন্যান্য নির্বাচনে তারা খারাপ করেনি। সিটি করপোরেশন নির্বাচন সিলেটে তারা ভালো করেছেন। এখন কী কারণে সামনের উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না এটা তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত।’

রাজনীতির বিপরীত মেরুতে অবস্থান করলেও প্রতিপক্ষ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মূল্যায়ন- তিনি ‘সজ্জন’ মানুষ, ‘ভালো’ মানুষ।রাজনৈতিক বক্তব্যে বিভিন্ন সময় একে অপরের প্রতি কঠিন ভাষা প্রয়োগ করলেও ফখরুলের মুখে কখনো নোংরা কথা শোনেননি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তন নিয়ে দলের নেতাদের বক্তব্যের পাশাপাশি ওবায়দুল কাদের গত সপ্তাহে বলেছিলেন, লজ্জা থাকলে নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলামের পদত্যাগ করা উচিত।ওই মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মঙ্গলবার বিআরটিসি কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় ওবায়দুল কাদেরের কাছে প্রশ্ন করা হয়।

মির্জা ফখরুলকে বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে সরানোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে জানানো হলে কাদের বলেন, “ওই দিন পলিটিক্যাল বক্তব্য দিয়েছিলাম। মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসবে কি আসবে না এটা বিএনপির ব্যপার। এখানে আওয়ামী লীগের নাক গলানোর প্রয়োজন নেই।”“এটা আমরা পাল্টা রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল। আমি ফখরুল সাহেবের পক্ষ নিলে ভেতরে ভেতরে তিনি পার্সোনালি ঝামেলায় পড়বেন তিনি।”

ওবায়দুল কাদের বলেন, “তিনি (ফখরুল) সজ্জন মানুষ, তাছাড়া মানুষ হিসেবেও ভালো। তিনি আসলে দলের চাহিদা পূরণ করলেন কিনা সেটা দেখবে বিএনপি। তিনি দল করেন, তাই দলের পক্ষে অনেক কিছু বলছেন। তিনি তো আর বিএনপির আবাসিক প্রতিনিধির মত বক্তব্য রাখেন না।  আমি মির্জা ফখরুল ইসলামের মুখে নোংরা কথা শুনিনি। ”

অবশ্য পরক্ষণেই বিএনপি আর মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের।আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নির্বাচনের পর বিএনপিকে দেখলে মনে হয় শিল্পী জয়নুলের কাদায় আটকে পড়া গরুর গাড়ির মতো। কাদায় আটকে আছে, সেটা ভুলের কাদায় এবং তাদের এখনকার কথাবার্তা, আচরণে ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত বা ইশারা নেই।”

“বিএনপি মহাসচিবের মুখে শোচনীয় ব্যর্থতার অসংলগ্ন প্রলাপ আমরা শুনতে পাচ্ছি। এই সরকারের আমলে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে পাঁচটি সিটি করপোরেশনে বিএনপি জিতেছে। সর্বশেষ সিলেটেও তারা জিতেছে। এখন কি কারণে তারা অংশ নেবে না, এটা তাদের ব্যপার।  নির্বাচনে অংশ নেওয়া তাদের অধিকার। অধিকার তারা প্রয়োগ না করলে সেটা তাদের সিদ্ধান্তের ব্যপার।”

বিএনপির মতো অবস্থায় থাকলেও আওয়ামী লীগ কখনও নিরবাচন বর্জন করত না উল্লেখ কাদের ইতিহাসের উদাহরণ দেন। “বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতি আপনাদের মনে আছে? সত্তরের নির্বাচনের কথা? সে সময় লিগ্যাল ফ্রেমের মধ্যেও বঙ্গবন্ধু নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। আজকেও আমরা বিএনপির অবস্থানে থাকলে সব নির্বাচনে অংশ নিতাম। কোনো নির্বাচন বর্জন করতাম না।”

 

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here