জয়ের লক্ষ্যটাকে সাধ্যের মধ্যে রেখেছিলেন চিটাগং ভাইকিংসের বোলাররা। প্রতিপক্ষ রাজশাহী কিংসকে ১৫৭ রানে বেঁধে ফেলে। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা নড়বড়ে হলেও ফের চিটাগংয়ের রক্ষাকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। তার অপরাজিত হাফসেঞ্চুরিতে ২ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয় তুলে নিল দলটি। টানা পাঁচ জয়ে চিটাগং উঠে গেল বিপিএলের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে।

বিপিএলে বুধবারের প্রথম ম্যাচে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে রাজশাহীকে হারাল চিটাগং। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫৭ রানের সাদামাটা সংগ্রহ গড়েছিল রাজশাহী। জবাবে মুশফিকের ৪৬ বলে হার না মানা ৬৪ রানের অসাধারণ ইনিংসে ১৯.২ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৯ রান তুলে জয়ের বন্দরে নোঙর করে চিটাগং। চলতি বিপিএলে জাতীয় দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকের এটি তৃতীয় ফিফটি।

এই জয়ে ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে বিপিএলের পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে উঠে গেল চিটাগং। তারা টপকে গেল ৮ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট পাওয়া ঢাকা ডায়নামাইটসকে। বিপিএলের চলতি আসরে ৬ জয়ের বিপরীতে কেবল ১টি ম্যাচে হেরেছে চিটাগং। অন্যদিকে ৮ ম্যাচে সমান ৪টি করে জয় ও হারে মেহেদী হাসান মিরাজের রাজশাহীর অর্জন ৮ পয়েন্ট। তারা আছে পয়েন্ট তালিকার পাঁচে।

জিততে শেষ ৯ ওভারে তখনো দরকার ৮৬ রান। সেটা সহজ হয়ে যায় মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দারুণ ব্যাটিংয়ে। মুশফিকের সঙ্গে যোগ দিয়ে চার-ছয়ে ঝড় তুলে রান-বলের ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচ নিয়ে আসেন ভাইকিংসের হাতের মুঠোয়। ক্রিজে এসেই দারুণ সব শট খেলতে থাকেন মোসাদ্দেক। লঙ অফের উপর দিয়ে উড়ান ছক্কা। কব্জির ব্যবহারে ছিল চোখ জুড়ানো কাভার ড্রাইভ। শুরুতে সময় নিয়ে খেলা মুশফিকও সময়ের সঙ্গেই মেলেন ডানা। তাদের দুজনের জুটি ৮৮ রানে অবিচ্ছিন্ন থেকে ম্যাচ জিতিয়ে দেয় ভাইকিংসকে।

এর আগে রাজশাহী এগিয়েছে লরি ইভান্সের ব্যাটে আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা ইভান্স এদিনও রাখেন ছন্দ। শেষ দিকে জ্বলে উঠলেন ক্রিশ্চিয়ান ইয়ঙ্কার। দুই বিদেশির ব্যাটের দাপটে মন্থর শুরুর পরও দেড়শো পেরিয়ে যায় রাজশাহী কিংসের ইনিংস।

টস হেরে এদিন ব্যাটিং পাওয়া রাজশাহীর একাদশে ফিরেছিলেন সৌম্য সরকার। আগের দুই ম্যাচে একাদশে সৌম্য কেন নেই এই প্রশ্ন বড় হয়েছিল। একাদশে ফিরে নিজের সামর্থ্যের ছাপ রাখার দরকার ছিল সৌম্যের। কিন্তু শুরুতেই তিনি ফেরেন বাজে শটে।

রবি ফ্রাইলিঙ্ককে উড়াতে গিয়ে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। ওয়ানডাউনে নেমে মার্শাল আইয়ুব এদিনও রান পাননি। রান পাননি জাকির হাসানও। তবে আবারও জমে উঠেছিল ইভান্স-টেন ডসকেটের জুটি। চতুর্থ উইকেটে দুজনে তুলেন ৫৪ রান। বল-রান সমান করে ব্যাট করতে থাকা ইভান্সও তখন ছিলেন রয়েসয়ে। টেন ডসকেটে আর জাকির দ্রুত বিদায় নেওয়ার পর ইয়ঙ্কয়ারের সঙে আরও ৪৭ রান যোগ করে ফেরেন ইভান্স।

৫৬ বলে ৮ চার আর দুই ছক্কায় থামেন ৭৪ রান করে। মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে বাকিটা সেরেছেন ইয়ঙ্কার। ২০ বলের ইনিংসে তিন চার আর ২ ছক্কায় করেন ৩৬ রান।

তবে এমন উইকেটে এই রান যে যথেষ্ট নয় পরে দেখিয়ে দেন মুশফিক-মোসাদ্দেক।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রাজশাহী কিংস:  ২০ ওভারেব ১৫৭/৫  (ইভান্স ৭৪, সৌম্য ৩, মার্শাল ১, টেন ডসকেট ২৮, জাকির ৫, ইয়ঙ্কার ৩৬*, মিরাজ ১০* ; ফ্রাইলিঙ্ক ১/৩১, নাঈম ০/১৬, খালেদ ২/৩০ , সানজামুল ১/১৯, রাহি ১/৪৩, ডেলপোর্ট ০/১৮)

চিটাগং ভাইকিংস: ১৯.৪ ওভারে ১৫৯/৪ (শেহজাদ ২৫,  ডেলপোর্ট ১, ইয়াসির ৩ , মুশফিক ৬৪* , জাদরান  ২৩, মোসাদ্দেক ৪৩* ; কামরুল ০/৩৯, মিরাজ ১/২৫ ,সানি ৩/২২, মোস্তাফিজ ০/৩২, কাইস ০/২১, সৌম্য ০/২০)

ফল: চিটাগং ভাইকিংস ৬ উইকেটে জয়ী।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here