প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বিভিন্ন আঞ্চলিক দেশ বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাহায্য ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

বৃহস্পতিবার দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তঃদেশীয় সমন্বয় জোরদার করতে ঢাকায় শুরু হওয়া চতুর্থ আরসিজি (রিজওনাল কনসালটেটিভ গ্রুপ) সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে তিনদিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা হয়তো প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ করতে পারব না, কিন্তু আমরা বিচক্ষণ কাজের মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ কমাতে পারবো। বাংলাদেশে আমরা প্রশমন কর্মসূচির সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি।’

সরকারের গৃহীত নানা উদ্যোগের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি কমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে পরিচিত।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ পূর্ব সতর্কতা ব্যবস্থা ও তথ্য প্রচার, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং আত্ম নিবেদিত সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় কার্যক্রমসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা কমাতে সক্ষম হয়েছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭২ সালে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি-সিপিপি মডেলের উদ্যোগ নিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিপিপি বিশ্বে সম্প্রদায়-ভিত্তিক দুর্যোগ প্রস্তুতির কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম। এখন আমরা অন্যান্য দুর্যোগের ক্ষেত্রেও সিপিপি মডেল অনুসরণ করছি।

প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য শেষে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। আজ থেকে শুরু হয়ে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে ২৬টি দেশ ও আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার ১২০ জন প্রতিনিধি বিভিন্ন সেশনে অংশ নেবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান আজিজ আহমেদসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা এতে বক্তব্য রাখেন।

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহ জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারী সংস্থার (ইউএনওসিএইচএ) উদ্যোগে সিভিল মিলিটারি সমন্বয়ের মাধ্যমে বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলা কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে ২০১৪ সালের মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আরসিজি গঠন করা হয়। আরসিজির প্রথম সম্মেলন ২০১৫ সালের থাইল্যান্ডের ব্যাংককে, দ্বিতীয় সম্মেলন ২০১৬ সালে ফিলিপাইনে এবং তৃতীয় সম্মেলন ২০১৭ সালের সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here