সদ্য সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানালেন তার জীবনের কথা। সাহিত্যের ছাত্র থেকে কিভাবে অর্থনীতির ভেতরে প্রবেশ করলেন সে কথাও খুলে বললেন।

আজ বৃহস্পতিবার তাকে দেয়া বিদায়ী সংবর্ধনা ও নতুন দায়িত্ব পাওয়া অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে বরণ করে নেয়া উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে মুহিত তার জীবন কাহিনী তুরে ধরেন।

বলেন, আমি সাহিত্যের ছাত্র ছিলাম। পড়াশুনা শেষ করে ১৯৫৬ সালে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেই। সে সময়কার রেলওয়ে ডিপার্টমেন্টে যোগ দিয়েছিলাম। পরে অবশ্য এটা পূর্ণ মন্ত্রণালয় হয়। তিনি বলেন, চাকরির সুবাদে ১৯৬২ সালে জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভূক্তির জন্য রেলওয়ে বাজেট করার দায়িত্ব পড়ে আমার ওপর।

তা যথাযথভাবে করি। এরপর পর থেকে আমাকে প্ল্যানিং আর ফাইন্যান্সের বাইরে আর কোনো কাজ করতে হয় নাই। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) ‘সাবেক অর্থমন্ত্রীকে বিদায়ী শুভেচ্ছা ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা স্বাগতম’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আবুল মাল আবদুল মুহিত এসব কথা বলেন। এসময় বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।

নতুন অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন ‘আপনি নেতৃত্ব নেন। আমি আপনার পেছনে আছি’। আবুল মাল আবদুল মুহিত আরো বলেন, আমি চলে যাব এটা আমি আগে থেকেই জানতাম। তাই আগে থেকেই আমি কিছু পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছি। যেমন প্রতিবারই আমরা বাজেট আলোচনা জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে শুরু করতাম। কিন্তু আমি এবার ডিসেম্বরে বাজেট আলোচনা শুরু করে দিয়েছি।

নতুন অর্থমন্ত্রীকে মুহিত বলেন, আগামী অর্থবছরের জন্য একটা বাজেট কাঠামো আমি তৈরি করেছি। আপনি এটা অর্থমন্ত্রণালয়ে পাবেন। এটা ধরে আপনি বাজেট করতে পারবেন। মুহিত বলেন, আমি ২০০১ সালেই অবসর নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরে চিন্তা করলাম শৈশব বয়সে এত এত স্বপ্ন দেখতাম। সেই স্বপ্নগুলোর কী হবে।

মুহিত বলেন, গত ১০ বছরে আমরা যা অর্জন করেছি এর পেছনে আছেন ১ জন। তিনি হলেন মাননীয় প্রধামন্ত্রী। তিনি আমাকে বুড়ো বয়সে দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আচরণ অনেক প্রোগ্রেসিভ ছিল। এটাও বাংলাদেশের উন্নয়নের অনেক বড় একটা কারণ।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাবেক এ অর্থমন্ত্রী বলেন, আজকে আমি কিছু অঙ্গীকার করছি। এগুলো আগামী বছরের বাজেটে তৈরি করে রেখে এসেছি। আপনি চাইলে এটা ধরে কাজ করতে পারবেন। এছাড়া যখনই প্রয়োজন হবে সহযোগিতার জন্য আসবেন। আমি ফ্রি থাকবো।

তিনি নতুন অর্থমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্রকে রিক্রুট করতে পারেন। তারা জরিপ করুক। ঢাকাতেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা জরিপ করবে। কে কত টাকার মালিক। কতগুলো বাড়ির মালিক। মানুষের চরিত্রে পরিবর্তন আনার জন্য এ পদক্ষেপ নিতে পারেন। আপনি এটার নেতৃত্ব নেন। আমি আপনার পেছনে আছি। আপনি চাইলে করদাতার সংখ্যা ১ কোটি করতে পারবেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here