ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইংরেজি ভাষার নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভির নারী সাংবাদিক ও নিউজ প্রেজেন্টার মারজিয়া হাশেমি মুক্তি পেয়েছেন। বিনা কারণে ১০ দিন কারাভোগের পর স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে তিনি আদালতের নির্দেশে মুক্তি পান।

বুধবার সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে ২৩ সদস্যের জুরি বোর্ডে মারজিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগে গঠনের শুনানি হয়। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে মুক্তি দেয়ার আদেশ দেন গ্রান্ড জুরি। এরপর কারাগারের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী মারজিয়ার আগের নাম ছিল মেলানি ফ্রাঙ্কলিন। খ্রিস্টান পরিবারে বেড়ে ওঠা এই নারী পরিণত বয়সে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের স্থপতি ইমাম খোমেনি (রহ.)’র চিন্তাদর্শনে প্রভাবিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। একজন ইরানি নাগরিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তিনি নিজের জন্য মারজিয়া হাশেমি নাম বেছে নেন।

তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে ইরানের ইংরেজি ভাষার নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভির সাংবাদিক ও নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাকে গত রোববার আমেরিকার মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইস ল্যাম্বার্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক করে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। কিন্তু মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে তাকে যোগাযোগ করতে দেয়া হয় নি এবং এই দুই দিন তিনি কার্যত নিখোঁজ ছিলেন।

মারজিয়া হাশেমি নিজের অসুস্থ ভাইকে দেখতে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আমেরিকা সফরে গিয়ে বিমানবন্দরেই আটক হন। তিনি তার মেয়েকে জানিয়েছেন, তাকে হ্যান্ডকাফ ও ডাণ্ডাবেরি পরানো হয়েছে এবং তার সঙ্গে দাগী আসামীর মতো ব্যবহার করা হয়েছে। প্রেস টিভির এই ধর্মপ্রাণ নারী সাংবাদিক আরো জানিয়েছেন, মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনী জোর করে তার হিজাব খুলে ফেলে সেই অবস্থায় তার ছবি তুলেছে।

মারজিয়ার হাশেমির অবৈধ আটকাদেশের বিরুদ্ধে ইরান, আমেরিকা, পাকিস্তান, নাইজেরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here