বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ব্যাটসম্যানরাও আলো ছড়ালেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচটা পাকিস্তান জিতে নিল প্রবল দাপটে। পাঁচ ম্যাচ সিরিজে চতুর্থ ম্যাচটা জিতে সিরিজে সমতা ফেরাল সফরকারীরা।

জোহানেসবার্গে রোববার দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। ‘পিংক ডে’ ম্যাচে টস জিতে প্রোটিয়াদের আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। স্বাগতিক দল ৪১ ওভারেই মাত্র ১৬৪ রানে গুটিয়ে যায়। জবাবে ১৮.৩ ওভার হাতে রেখেই মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

সিরিজের প্রথম ওয়ানডে জিতলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডেতে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছিল পাকিস্তান। বুধবার কেপ টাউনে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি দুই দল।

ম্যাচ শুরুর আগেই দুঃসংবাদ শুনতে হয়েছিল পাকিস্তানকে। বর্ণবাদী মন্তব্যের জন্য আইসিসি চার ম্যাচ নিষিদ্ধ করে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অ্যান্ডিল ফেলুকায়ো ব্যাট করার সময় সরফরাজ তাকে কালো বলে মন্তব্য করেছিলেন। সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে তাই নিয়মিত অধিনায়ককে রেখেই খেলতে নামতে হয় পাকিস্তানকে। নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয় অভিজ্ঞ শোয়েব মালিকের হাতে। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক দায়িত্বটা সেরেছেন দারুণভাবে।

১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনারের ব্যাটে দারুণ শুরু পায় পাকিস্তান। ইমাম-উল-হক ও ফখর জামান উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৭০ রান। ৪৪ রান করা ফখরকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন ইমরান তাহির। তবে দ্বিতীয় উইকেটে বাবর আজমকে সাথে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার পরাজয় নিশ্চিত করেন ইমাম। এই দুজনের জুটি ৯৪ রানের।

তবে ইমাম ব্যক্তিগত ৭১ রান করে ফেরেন দলীয় ১৬৪ রানে। দুই দলের স্কোর তখন সমান। মোহাম্মদ রিজওয়ান তখন ব্যাটিংয়ে নেমে মুখোমুখি প্রথম বলেই চার হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

ইমামের ৯১ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ১টি ছক্কা। বাবর আজম ৪১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ৫৩ বলের ইনিংসে ২টি চার হাঁকান তিনি। রিজওয়ান ৪ রানে অপরাজিত থেকে যান।

কিন্তু ম্যাচের আসল গল্পটা পাকিস্তান লিখেছে বোলিংয়ে। যেখানে নায়ক উসমান সিনওয়ারি। শাহিন শাহ আফ্রিদির তোপে মাত্র ১৮ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বসে দক্ষিণ আফ্রিকা। কুইন্টন ডি কক শূন্য ও রিজা হেনড্রিক্স ২ রান করে ফেরেন। এরপর হাশিম আমলা ও ফ্যাফ ডু প্লেসির ১০১ রানের তৃতীয় উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

তবে এই দুজন ফিরতেই ভেঙে পড়ে প্রোটিয়াদের ইনিংস। ৫৭ রান করা ডু প্লেসিকে ফেরান শাবাদ খান। ৫৯ রান করে আমলা ফেরেন ইমাদ ওয়াসিমের শিকার হয়ে। ১৩০ রানে ৪ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর আর মাত্র ৩৪ রান যোগ করতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি।

যার ৪টি উইকেটই নিয়েছেন উসমান সিনওয়ারি। ডেভিড মিলারকে (৪) মোহাম্মদ আমির ফিরিয়ে দেন। আর ৩৮তম ওভারে রাইসি ভন দার দুসেন (১৮), ডেল স্টেইন (০) ও কাগিসো রাবাদাকে (০) ফেরান উসমান সিনওয়ারি। পরের ওভারে বল করতে এসে ফেরান ফেলুকায়োকে (১১)। ইমরান তাহিরের (৫) উইকেট তুলে নিয়ে প্রোটিয়াদের ইনিংস গুটিয়ে দেন শাবাদ খান।

স্তন ক্যানসার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ও তহবিল সংগ্রহের জন্য পিংক ডে ম্যাচ খেলে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা। গোলাপি জার্সিতে খেলা এর আগের ৮ ম্যাচে দলটি কখনোই হারেনি। নবম ম্যাচে এসে দলটি হার উপহার পেল পাকিস্তানের কাছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here