বিরোধী দলকে সংসদে কথা বলার জন্য সব সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণতান্ত্রিক ধারায় সমালোচনা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধী দলকে আশ্বাস দিতে পারি আপনারা যথাযথভাবে সরকারের সমালোচনা করতে পারবেন। এখানে আমরা কোনো বাধা সৃষ্টি করবো না। অতীতেও কোনো দিন আমরা বাধা দেইনি।

বুধবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল তিনটায় শুরু হওয়া অধিবেশনে প্রথমেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়।

প্রথমে স্পিকার হিসেবে রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শিরিন শারমীন চৌধুরী তৃতীয়বারের মতো জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন। পরে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ শপথ পড়ান স্পিকারের।

এরপর সংসদ সদস্যরা ডেপুটি স্পিকার হিসেবে গাইবান্ধার সাংসদ ফজলে রাব্বি মিয়াকে নির্বাচিত করেন। এ সময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ একাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য ও মহাজোটের নির্বাচিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় বক্তব্য রাখবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তবে নির্বাচনে ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে শপথ নেননি বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের আট নির্বাচিত।

স্পিকারকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ নেতা হিসেবে আমার দায়িত্ব হচ্ছে সব সদস্যের অধিকার দেখা, সেইসঙ্গে স্পিকার হিসেবে সরকারি দল ও বিরোধী দলসহ সব সদস্য যাতে সমান সুযোগ পায়, অবশ্যই আপনি সেটা দেখবেন। এ ব্যাপারে আপনাকে আমরা সব রকম সহযোগিতা করবো। সেই আশ্বাস আমি দিচ্ছি।

তিনি বলেন, এটুকু আশ্বাস দিতে পারি এই সমালোচনা আমাদের বিরোধী দলে যারা আছেন, তারা যথাযথভাবে করতে পারবেন। এখানে আমরা কোনো বাধা সৃষ্টি করবো না। কোনো দিন বাধা আমরা দেইনি, দেব না।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন। আর সংসদ আপনাকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করেছে। এজন্য আমরা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তিনি বলেন, অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উৎরাই পার হয়ে আমরা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে পেরেছি। এবারের নির্বাচনে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। একটি সফল নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রই একটি দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়, তা আজ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রমাণিত সত্য। আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে গিয়ে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছি। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়ে তুলবো।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে যেহেতু আমাদের নির্বাচিত করে। আমরা যারা প্রতিনিধিরা বসেছি প্রত্যেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভোটারদের সার্বিক উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হবে এবং দেশে যাতে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে, বাংলাদেশ জঙ্গিমুক্ত, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ দেশ যাতে গড়ে উঠে মানুষের জীবনের জীবনে শান্তি ও নিরাপদ হয় সেটাই আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। অবশ্যই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here