দুর্নীতির ধারণা সূচক নিয়ে টিআই-এর প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার। সংগঠনের জন্য ফান্ড পেতেই এধরণের প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

আজ বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল।

প্রতিবেদনটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত দাবি করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে টিআই যে গবেষণা প্রতিবেদন দিয়েছিল তা হালে পানি পায়নি। তাই গতকালের প্রতিবেদন দিয়ে তারা দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার সারা বিশ্বে একযোগে দুর্নীতির ধারণাসূচক প্রকাশ করে টিআই। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের চার ধাপ অবনতি হয়েছে। ২০১৭ সালে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৭তম। ২০১৮ সালে এটা হয়েছে ১৩তম।

এই প্রতিবেদনের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতপক্ষে কোন পদ্ধতিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এই ধারণাসূচক তৈরি করেছে। সেটি তারা সুনির্দিষ্টভাবে স্পষ্ট করেননি। আমরা যতদূর জানি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতিসূচক নিরূপনের মেথডোলজি হচ্ছে কিছু তথাকথিত বিশেষজ্ঞ ব্যবসায়ীর মতামত গ্রহণ করা। তাদের বিভিন্ন জায়গায় নানা নামে কিছু কমিটি আছে, সেই কমিটিগুলোর মাধ্যমে কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। অর্থাৎ তাদের মেথডোলজিটাই ত্রুটিপূর্ণ।

তিনি বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনা যে পদ্ধতি ব্যবহার করে সেটি স্বচ্ছ নয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতিসূচক তৈরির পদ্ধতিটার মধ্যেই ট্রান্সপারেন্সি নেই। তাদের কাজের পদ্ধতি ট্রান্সপারেন্ট নয়।

তাদের কাছে দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ চাইবেন কিনা- এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) ইতোমধ্যে তাদের কাছে তথ্য চেয়েছে, কোন পদ্ধতিতে এটি করেছে সেই ব্যাখ্যা চেয়েছে। আশা করি, তারা দুদককে সেই ব্যাখ্যা দেবেন। আর দিতে ব্যর্থ হলে আমি আশা করব তারা তাদের কাজের পদ্ধতির মধ্যে ট্রান্সপারেন্সি আনবেন। এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকবেন।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনের পর নতুন সরকার যথন গঠিত হলো তথন নির্বাচন নিয়ে টিআইবি একটি গবেষণা প্রতিবেদন না কি উপস্থাপন করেছিল। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী সেটি গবেষণা প্রতিবেদন। অথচ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনা নির্বাচনে অবজারভার ছিল না। তাদের বক্তব্য আর বিএনপির বক্তব্য ৮০ শতাংশ মিল ছিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বক্তব্য দেখে মনে হয়েছে বিএনপির হয়ে যেন একটা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে। সেটি যখন হালে পানি পায়নি তখন গতকাল (মঙ্গলবার) দুর্নীতির ধারণাসূচক প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, এই প্রতিবেদন নিয়ে দুদকও তাদের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা কোনো সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির ভিত্তিতে এই ধারণাসূচক তৈরি করেছেন তাদের প্রতিবেদনে সেটার কোনো স্পষ্টতা নেই। সুতরাং এটি প্রকৃতপক্ষে একটি মনগড়া প্রতিবেদন।

টিআইবির উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা দুদককে জানান, সেটি সরকারের কাছেও উপস্থাপন করুন। সরকার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা করবে। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন না। কাজের পদ্ধতির মধ্যে যে ট্রান্সপারেন্সির অভাব আছে সেটি দূর করুন।

 

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here