প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার পুনরায় বলেছেন যে মিয়ানমারকে অবশ্যই বাংলাদেশে বাস করা ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গা নাগরিককে ফিরিয়ে নিতে হবে। সেই সাথে তিনি এ বিষয়ে আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সমর্থন চেয়েছেন।

‘মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাংলাদেশকে সাহায্য করা উচিত,’ বলেন তিনি।

ঢাকা সফররত ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী নুয়েন কুয়ক জুং শেখ হাসিনার সাথে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য উন্নত জায়গার ব্যবস্থা করতে ভাসানচরে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ইতিমধ্যে সমঝোতা সই করেছে। ‘কিন্তু বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।’

কৃষি খাত উন্নয়নে ভিয়েতনামের বিপুল অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে কৃষি খাত আরও উন্নত করতে বাংলাদেশ তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা নেবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ভিয়েতনামের সাথে যোগাযোগে গুরুত্ব এবং ব্যবসা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে জোর দিয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম উভয়ে তাদের মুক্তির জন্য অনেক সংগ্রাম করেছে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি যখন শিক্ষার্থী ছিলেন তখন ভিয়েতনামের মুক্তির সংগ্রাম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর একটি তরুণ প্রতিনিধিদল ভিয়েতনাম সফর করেছিল এবং ওই দলে তার ছোট ভাইও ছিলেন।

এ সময় ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী নুয়েন কুয়ক জুং বলেন, শেখ হাসিনা পুনরায় নির্বাচিত হওয়ায় ভিয়েতনামের সরকার ও জনগণ অনেক খুশি হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম ঐতিহ্যগত বন্ধু এবং উভয় দেশের অনেক মিল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেই সাথে তিনি দুদেশের মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ সম্প্রসারণে জোর দেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে আলাপকালে নুয়েন কুয়ক জুং উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তার মতে, ‘এটা বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট বোঝা।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সাথে নিজেদের একাত্মতার অংশ হিসেবে ভিয়েতনাম ৫০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দেবে বলে জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও  উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও ব্যবসার পাশাপাশি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

নুয়েন কুয়ক জুং নিজের সুবিধাজনক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভিয়েতনাম সফরের আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here