ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, বইমেলা উপলক্ষে লেখক ও ব্লগাররা চাইলে বিশেষ নিরাপত্তা দেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার বইমেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শনে এসে একথা বলেন তিনি। এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ধর্মীয় উস্কানিমূলক কোনো বই প্রকাশ ও প্রদর্শন করা যাবে না।

আসন্ন বইমেলাকে ঘিরে কোনো জঙ্গি হুমকি নেই। সংঘবদ্ধ জঙ্গি তৎপরতার সক্ষমতাও নেই জঙ্গি সংগঠনগুলোর।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আগামীকাল থেকে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে। প্রতিবারের মতো এবারও নিশ্ছিদ্র ও সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে যা যা করণীয় সকলের সমন্বয়ে তা করা হচ্ছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মেলায় আগত দর্শনার্থী, লেখক ও প্রকাশকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত প্রতিটা ইঞ্চি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় থাকবে এবং মেলায় স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বাংলা একাডেমিতে ২টি প্রবেশপথ ও একটি বাহিরপথ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩টি প্রবেশপথ ও ৩টি বাহিরপথ থাকবে। প্রতিটি প্রবেশপথেই আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করে সবাইকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।

এ ছাড়া, হাতেও তল্লাশি করা হবে, এ জন্য প্রবেশপথে একটু বিলম্ব হলেও সবাইকে ধৈর্য সহকারে পুলিশকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

ইভটিজিংসহ যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা প্রবেশ পথ থাকবে। মেলার বাইরের দিকে বাঁশের বেড়া দিয়ে পুলিশের একটি আউটার কর্ডন থাকবে যেন কোনো অপ্রত্যাশিত ব্যক্তি এসে নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটাতে না পারে।

টিএসসি দিয়ে যারা প্রবেশ করবেন, তারা গোলচত্বরে এবং দোয়েল চত্বর দিয়ে যারা প্রবেশ করবেন তারা রাস্তার দুই পাশে এবং ঢাবির জিমনেসিয়ামে গাড়ি পার্ক করবেন। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধসহ পুরো এলাকায় কোন ভাসমান দোকান ও হকার থাকবে না। ছিনতাই-পকেটমার রোধে পুলিশের ফুট পেট্রোল ও মোবাইল পেট্রোল টিম কাজ করবে। যে কোনো তথ্য সংগ্রহে সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত গোয়েন্দা পুলিশ তৎপর থাকবে।

তিনি আরও বলেন, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত থাকবে। ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে পুরো এলাকায় নজরদারি থাকবে। কন্ট্রোল রুমে পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে, কেউ সহায়তা চাইলে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে পুলিশ অফিসাররা প্রস্তুত রয়েছেন। ব্লগার-লেখকরা নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে সহায়তা চাইলে তাদের বাড়তি নিরাপত্তা দেবে পুলিশ।

ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক যে কোনো বই বিপণন নিষিদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব নজরদারিতে বাংলা একাডেমির সার্ভিল্যান্স টিম ও পুলিশের গোয়েন্দারা থাকবে। কোনো স্টলে এমন বই পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বইমেলায় আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য ঢাবি এলাকার এন্ট্রি পয়েন্টগুলোতে বাড়তি ট্রাফিক মোতায়েন থাকবে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here