বিপিএল থেকে আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে সিলেট সিক্সার্সের। অন্যদিকে, প্লে অফ নিশ্চিত হয়ে গেছে চিটাগং ভাইকিংসের। দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল আসরের ৪০তম ম্যাচে। শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) এই ম্যাচেই মুশফিকুর রহিমের দল চিটাগংকেই ২৯ রানে হারিয়ে দিলো আসর থেকে বাদ পড়া সিলেট।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান তোলে অলক কাপালির দল সিলেট। জবাবে জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৮.৩ ওভারে ১৩৬ রানেই গুটিয়ে যায় মুশফিকের দল।

৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলার সুযোগ পাবে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এবং রংপুর রাইডার্স। এখানে জিতলেই সরাসরি ফাইনাল। পরাজিত দল চলে যাবে ৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে। তাদের লড়তে হবে এলিমিনেটর ম্যাচে জয়ী দলের বিপক্ষে। এলিমিনেটরে খেলবে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা দল দুটি। এলিমিনেটরে হারলে আর কোনো সুযোগ নেই। এই ম্যাচটিতে চিটাগংয়ের প্রতিপক্ষ হবে রাজশাহী কিংস অথবা ঢাকা ডায়নামাইটস।

শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চিটাগং থামে ১৩৬ রানে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আশরাফুলকে হারায় দলটি। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বিপিএলে ফেরা আশরাফুলের এই আসরে এটি তৃতীয় ম্যাচ। সর্বশেষ ৯ জানুয়ারি মাঠে নামেন তিনি। প্রথম ম্যাচটি খেলেন ৫ জানুয়ারি। এক ম্যাচে তিন, আরেক ম্যাচে করেন ২২। এদিন শূন্য।

আশরাফুল কতটা চাপে রয়েছেন সেটি বোঝা গেছে তার ফিল্ডিং দেখে। দুটি সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেছেন। ওপেনে নেমে দ্বিতীয় বলে আসেন স্ট্রাইকে। তাসকিনের অফস্টাম্প ঘেঁষা বলে ড্রাইভ করে নাগালে পাননি। ব্যাক অব লেংথে লাফিয়ে ওঠা পরের বলে ব্যাট দিতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন।

আশরাফুল ফেরার পর ইয়াসির আলী এবং মুশফিকুর রহিম দারুণ খেলতে থাকেন। দুটি ‘আক্ষেপে’র আউটে ফিরতে হয় তাদের। অলক কাপালিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে জেসন রয়ের অবিশ্বাস্য এক ক্যাচের শিকার হন ইয়াসির (২৭)। পাখির মতো উড়ে একহাত দিয়ে বল ধরেন। বাউন্ডারি লাইনে দারুণ দক্ষতার সঙ্গে ভারসাম্যও রক্ষা করেন। মুশফিক ফেরেন রানআউটে। উইকেটরক্ষক অনেকটা পথ ছুটে এসে ডাইভ দিয়ে স্টাম্প ভাঙেন। তার আগে সহজাত স্লগ-সুইপ, রিভার্স-সুইপে ৩২ বলে তিন চার, তিন ছয়ে ৪৮ রান করেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক।

এরপর আর কেউ সেভাবে দাঁড়াতে না পারলে ম্যাচ বেরিয়ে যায় চিটাগংয়ের হাত থেকে।

সিলেটের ইবাদত হোসেন ১৭ রান খরচায় চার উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন। দুই উইকেট পার্নেলের। তাসকিন নেন এক উইকেট।

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে টুর্নামেন্ট থেকে আগেই ছিটকে যাওয়া সিলেট। বরাবরের মতো এই ম্যাচেও দলটির ব্যাটিং লাইনআপে কিছু ওলট-পালট করা হয়।

লিটন দাসের পরিবর্তে নামেন আন্দ্রে ফ্লেচার। এই আসরে এটি তার দ্বিতীয় ম্যাচ। সঙ্গে ছিলেন আফিফ। দ্বিতীয় ওভারে আফিফকে ফেরান টুর্নামেন্টে প্রথম মাঠে নামা হার্ডাস ভিলজোয়েন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তিনি নতুন মুখ। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এখন পর্যন্ত একটি মাত্র টেস্ট খেলেছেন।

সতীর্থদের যাওয়া-আসার মাঝে ফ্লেচার দাঁড়িয়ে যান। ১৯তম ওভারে ভিলজোয়েনের বলে সাজঘরে ফেরার আগে ৫৩ বলে ৬৬ করেন। ছয়টি চার এবং দুটি ছয় হাঁকান। থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা সাব্বির রহমান। ২৫ বলে দুই চার, দুই ছয়ে ৩২ করেন তিনি।

মোহাম্মদ নেওয়াজ ১৯ বলে ৩৪ রানের ছোট একটি ঝড়ে দলকে লড়াইয়ের সংগ্রহ এনে দেন। তার ইনিংসে দুটি চার এবং তিনটি ছয়ের মার ছিল।

প্রথমবার খেলতে নেমেই ভাইকিংসের সেরা বোলার ভিলজোয়েন। ২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন প্রোটিয়া পেসার। অন্য উইকেটটি নাঈম হাসানের।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here