আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে অনেক পথ অতিক্রম করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার ২০১৩ সালের নিরাপদ খাদ্য আইন করেছে। এরপর এটি বাস্তবায়নে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে। তারা বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান যেমন চলছে, তেমন খাদ্যে ভেজাল মেশানোর বিরুদ্ধেও অভিযান জোরদার করা হবে। কারণ খাদ্যে ভেজাল মেশানও এক ধরনের দুর্নীতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘খাদ্যে ভেজাল দিয়ে মানুষের জীবন ধ্বংসের অধিকার কারও নেই। খাদ্যে ভেজাল দেওয়াও এক ধরনের দুর্নীতি, এটা বন্ধ করতেই হবে। তাই খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আলাদাভাবে বাংলাদেশ নিরাপদ কর্তৃপক্ষ করে দিয়েছি, যাতে মাঠে-ঘাটে সবখানেই ভেজালের বিরুদ্ধে কাজ করা যায়। তবে এক্ষেত্রে মানুষকে সচেতন করতে হবে। দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, ভেজালও এক ধরনের দুর্নীতি। এই দুর্নীতি রোধেও কঠোর অভিযান চলছে। দেশের মানুষের নিরাপদ খাদ্য আমরা দেবো এবং নিশ্চিত করবো।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘খাদ্যের চাহিদা কখনও শেষ হয় না। এর চাহিদা থাকবেই। আমরা চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য জোগান দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা দেশীয় মাছ উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। তাই আজ মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। শুধু মাছ নয়, ডিম, দুধ, মাংস এসব আমিষ জাতীয় খাদ্য উৎপাদনেও বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা পুষ্টিকর খাদ্যের ওপর বিশেষ নজর রাখছি।’

পুষ্টিকর খাবারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুষ্টিকর খাবারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি লক্ষ রেখে অতি দরিদ্রদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মা যাতে তার শিশুর পরিচর্যা করতে পারেন সেজন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করে দিয়েছি। আগে এটা তিন মাস ছিল, পরে চার মাস করেছিলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো যেন সঠিকভাবে মজুত করা যায় সে লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছি। দেশে ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুতের সক্ষমতা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২৭ লাখ মেট্রিক টনে নিয়ে যাওয়া।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে ভেজাল মেশানো এটা চরিত্রগত বদভ্যাস। মানুষের এ চরিত্র পাল্টাতে হবে। এটা আমরা দূর করে ফেলবো। এর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি, নেবো। খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে মানুষের জীবন ধ্বংস করার অধিকার  কারো নেই।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here