দুর্দান্ত ব্যাটিং করলেন বাবর আজম। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তুললেন ঝড়। তাকে যোগ্য সমর্থন দিয়ে গেলেন হুসাইন তালাত। তাতে দারুণ ভাবেই লক্ষ্যের পেছনে ছুটে চলা পাকিস্তানের। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকান বোলাররা ম্যাচে ফিরল ঠিক সময়ে। শেষ ওভারে গড়ানো রোমাঞ্চকর ম্যাচে নায়ক বনে গেলেন আন্দিলে ফেলুকাওয়া। দারুণ জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নিল প্রোটিয়ারা।

রোববার জোহানেসবার্গে পাকিস্তানকে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৭ রানে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আগে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ১৮৮ রান করে স্বাগতিকরা। জবাব দিতে নেমে পাকিস্তান থেমেছে ৭ উইকেটে ১৮১ রান করে। তিন ম্যাচের সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিজেদের করে নিল পাকিস্তান। এর আগে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর ওয়ানডে সিরিজও ৩-২ এ হারে সফরকারী দল।

জাননেম্যান মালান ও রিজা হেনড্রিকসের ব্যাটে শুরুটা ভালো করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ইমাদ ওয়াসিমের কাছে মালান (৩৩) বিদায় নিলে ভাঙে ৫৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। হেনড্রিকস ২৮ রানে রানআউট হলে ব্যাট করতে নামেন মিলার।

মিলারকে ৩৬ রানের জুটি গড়তে সঙ্গ দেন রাসি ফন ডার ডাসেন। ২৭ বলে ১ চার ও ৪ ছয়ে ৪৫ রান করেন তিনি। শেষ দিকে আরও গতিময় ব্যাটিং করেন মিলার। ২৯ বলে ৪টি চার ও ৫টি ছয়ে ৬৫ রানে অপরাজিত ছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক। অন্য প্রান্তে ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন হেনরিখ ক্লাসেন।

১৮৯ রানের লক্ষ্যে শুরু থেকে মারকুটে ছিলেন বাবর। চার ওভারে স্কোরবোর্ডে ৪৫ রান তোলে ফখর জামানের সঙ্গে তার এই জুটি। ১৪ রানে বেউরান হেনড্রিকসের শিকার হন ফখর।

এরপর হুসেন তালাতের সঙ্গে বাবরের দুর্দান্ত জুটিতে সহজ জয় দেখছিল পাকিস্তান। তাদের ১০২ রানের শক্ত জুটি ভেঙে দারুণ ব্রেকথ্রু আনেন বেউরান। ৫৮ বলে ১৩ চার ও ১ ছয়ে ৯০ রানে মাঠ ছাড়েন বাবর। তার সেঞ্চুরি না হওয়ার আক্ষেপ হয়তো কাটতো দলের জয়ে। কিন্তু তার বিদায়ের পর আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান। শেষ ২৪ বলে ৬ উইকেট তারা হারায় ৩৪ রানের ব্যবধানে।

ক্রিস মরিস ও আন্দিল ফেলুকায়োর জোড়া আঘাতে বিধ্বস্ত হয় সফরকারীদের ব্যাটিং লাইন। বাবর আউট হওয়ার পরের ওভারে আসিফ আলীকে (২) হেনড্রিকসের ক্যাচ বানান ফেলুকায়ো।

৩৯ বলে হাফসেঞ্চুরি করা তালাত পরের ওভারে মরিসের শিকার হন। বোল্ড হয়ে থামে তার ৪১ বলে ৫৫ রানের ইনিংস। একটি চার মেরে ধাক্কা কাটানোর ইঙ্গিত দিলেও ওই ওভারেই মরিসের কাছে বোল্ড হন ইমাদ ওয়াসিম (৫)।

শেষ ওভারে ১৫ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের। শোয়েব মালিকের প্রথম বলের বাউন্ডারিতে ফের জয়ের স্বপ্ন জাগে তাদের। কিন্তু ফেলুকায়োর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পরের দুই বলে একটি করে রান নেন মালিক ও হাসান আলী। তবে চতুর্থ বলে মালিককে ৬ রানে স্কয়ার লেগে ফন ডার ডাসেনের ক্যাচ বানান প্রোটিয়া পেসার। তার সুইংয়ে পরের বলে বোল্ড হন হাসানও। মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক করতে পারেননি ফেলুকায়ো। কিন্তু শেষ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়ে ঠিকই সতীর্থদের সঙ্গে জয়ের উৎসব করেছেন তিনি।

ফেলুকায়ো সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। দুটি করে পান বেউরান ও মরিস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৮৮/৩ (২০ ওভার) (হেনড্রিক্স ২৮, মালান ৩৩, দুসেন ৪৫, মিলার ৬৫*; ইমাদ ১/৯, আফ্রিদি ১/২৭)

পাকিস্তান: ১৮১/৭ (২০ ওভার) (বাবর ৯০, তালাত ৫৫; ফেলুকাওয়া ৩/৩৬)

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা: ডেভিড মিলার।

সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ২-০ তে এগিয়ে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here