ইরান অক্সিজেন-১৮ নামের পরমাণু আইসোটোপ বা সমস্থানিক তৈরি করেছে। ইরানের তৈরি অক্সিজেন-১৮’র বিশুদ্ধতা ৯৭ শতাংশ বলে জানিয়েছেন দেশটির আণবিক সংস্থা বা আইইওআই’র প্রধান আলী আকবর সালেহি।

ইরানের পশ্চিম মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ মারকাজিতে এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন তিনি। তিনি আরো জানান, খানদাব পরমাণু গবেষণা চুল্লিতে অক্সিজেন-১৮ উৎপাদন করা হয়েছে। ইরানের প্রতি বছর ৬০ কিলোগ্রাম অক্সিজেন-১৮ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এই উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ কিলোগ্রামে নিয়ে যাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।

বিশ্বের মাত্র পাঁচটি দেশ এ পর্যন্ত অক্সিজেনের পরমাণু আইসোটোপ উৎপাদনের প্রযুক্তি আয়ত্ত করেছে এবং এ আইসোটোপ তৈরির মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে বিরাজমান  একাধিপত্যের সমাপ্তি ঘটাল ইরান।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত রেডিওআইসোটোপ ফ্লুরিন -১৮ উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয় অক্সিজেন – ১৮। পজিট্রন এমিশন টোমোগ্রাফি বা পিইটি নামের প্রযুক্তিতে দেহ-চিত্র ধারণের কাজে ব্যবহৃত হয় এটি । এ চিত্রের মাধ্যমে দেহ-কোষকলা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্য তৎপরতা খতিয়ে দেখা হয়।

অক্সিজেন-১৮ উৎপাদনের মাধ্যমে পিইটি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জন্য ইরানকে আর বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হবে না। এর আগে ইরানকে প্রতি কিলো অক্সিজেন-১৮ কিনতে ৩০ হাজার ডলার গুণতে হতো।

খানদাব পরমাণু গবেষণা চুল্লিতে বর্তমানে ১২টি বিশুদ্ধিকরণ বরুজ বা টাওয়ার রয়েছে। এর মধ্যে অক্সিজেন আইসোটোপ তৈরির কাজে আটটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান সালেহি।

ইরানের তরুণ বিজ্ঞানীদের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাদের টানা চার বছর গবেষণার মাধ্যমে এই আইসোটোপ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানের এমন কোনো শাখা-প্রশাখা নেই যা ইরানি বিজ্ঞানীরা জয় করতে পারবেন না।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here