বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার ইউএনএইচসিআর এর বিশেষ দূত ও জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী নেতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

দুই দিনে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ঘুরে, তাদের সঙ্গে কথা বলে ঢাকায় ফিরে বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে যান ইউএনএইচসিআরের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় খুবই প্রশংসা করেছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি এবং প্রধানমন্ত্রীকে উদাহরণ সৃষ্টিকারী নেতা বলেছেন তিনি। তিনি (জোলি) বলেছেন, বিশ্বে এরকম নেতার দরকার আছে। এই মূহুর্তে আপনার মতো লিডার কম আছে বলেও মন্তব্য করেছেন জোলি।

নিপীড়নের মুখে ২০১৭ সালের পর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তার আগে থেকে এখানে আছে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা।

প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পরিবারসহ তার গৃহবন্দি থাকা এবং ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর শরণার্থী হিসেবে দিনযাপনের কথা শোনান। জোলি ওই ঘটনা শুনে খুবই দুঃখ প্রকাশ করেন বলে প্রেস সচিব জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী। রোহিঙ্গাদের ফেরানোর বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি, চুক্তি করেছি। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে দেরি করায় প্রধানমন্ত্রী নিজের হতাশার কথাও তুলে ধরেন বলে প্রেস সচিব জানান।

আড়াই বছর আগে পালিয়ে এসে যে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের ঘরে প্রায় ৪০ হাজার শিশু জন্ম নিয়েছে। এই শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন জোলি তাদের ‘যথাযথ’ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার পরিদর্শনের সময় তিনি শুনেছেন কিভাবে হত্যা, ধর্ষণ ও নিযাতন করা হয়েছে।

জোলি বলেন, নারীদের ধরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে মেরে ফেলার কথা তিনিও শুনেছেন।

সৌজন্য সাক্ষাতে শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে ঢাকার ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরিয়ে দেখান বঙ্গবন্ধুর নাতি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক। হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে ঢাকার ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরিয়ে দেখান বঙ্গবন্ধুর নাতি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি সোমবার সকালে বাংলাদেশে এসেই কক্সবাজার রওনা হয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চাকমারকূল এলাকায় বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তিনি। বিকালে টেকনাফের দমদমিয়া এলাকায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য নির্মিত ট্রানজিট ক্যাম্প দেখতে যান তিনি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here