দলে নেই আক্রমণভাগের অন্যতম দুই খেলোয়াড় নেইমার ও এদিনসন কাভানি। তাদের ছাড়াই দারুণ ছন্দে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে পিএসজি।

প্রথমার্ধে ধুকতে থাকা ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে নিজেদের মেলে ধরে  ম্যানইউকে তাদেরই মাঠে ২-০ গোলে হারিয়ে দিল টমাস টুখেলের দল। গড়লো প্রথম ফরাসি ক্লাব হিসেবে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে জয়ের অনন্য কীর্তি।

চ্যাম্পিয়ন্স লীগে শেষ ষোলোর প্রথম লেগের এ জয়ে গোল দুটি করেন প্রেসনেল কিম্পেম্ব ও  কিলিয়ান এমবাপে। মঙ্গলবার শেষ ষোলোর প্রথম পর্বে অন্য ম্যাচে ইতালিয়ান ক্লাব রোমা নিজেদের মাঠে ২-১ গোলে পর্তুগালের দল এফসি পোর্তোকে হারিয়েছে।

গত দুই আসরে শেষ ষোলো থেকে ছিটকে পড়া পিএসজির সামনে এখন শেষ আটে ওঠার হাতছানি। আগামী ৬ মার্চ ফিরতি পর্বে পিএসজির মাঠে পল পগবাকে ছাড়াই খেলতে যাবে ইউনাইটেড।

ম্যাচের শেষদিকে দানি আলভেসকে অহেতুক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার।

এদিন প্রথমবারের মতো মুখোমুখি লড়াইয়ে নামা দুদলের প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। কেউই তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। উল্টো ছিল ফাউলের ছড়াছড়ি; এ সময়ে মোট ১৩ বার ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি। পাঁচ জনকে দেখান হলুদ কার্ড; এর মধ্যে পিএসজির তিনজনকে।

বিরতির আগে একমাত্র উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে ৩৯তম মিনিটে। বল দখলের লড়াইয়ে অ্যাশলি ইয়াং ছুটে গিয়ে পিএসজির আনহেল দি মারিয়াকে ধাক্কা দিলে হাতে ব্যথা পান এই আর্জেন্টাইন। এতে দুদলের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু হয় তর্কাতর্কি। কোনো দুর্ঘটনা অবশ্য ঘটেনি। খানিক পরেই মাঠে ফেরেন দি মারিয়া। আর আগেই হলুদ কার্ড দেখা ইয়াংকে এ যাত্রায় সতর্ক করে দেন রেফারি। বিরতির ঠিক আগে পায়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ইউনাইটেডের ইংলিশ মিডফিল্ডার জেসি লিনগার্ড। বদলি নামেন চিলির ফরোয়ার্ড আলেক্সিস সানচেস। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে প্রথম সুযোগটি পায় অতিথিরা। এমবাপের হেড ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান দাভিদ দে হেয়া। ৫৩তম মিনিটে দি মারিয়ার নেওয়া ওই কর্নারেই কাছ থেকে বাঁ পায়ের টোকায় পিএসজিকে এগিয়ে নেন ফরাসি ডিফেন্ডার কিম্পেম্বে।

এগিয়ে গিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা পিএসজি প্রতিপক্ষের রক্ষণে প্রচন্ড চাপ বাড়ায়। দ্রুত সাফল্যও পেয়ে যায় তারা। ৬০তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে দি মারিয়ার ক্রস ছোট ডি-বক্সের বাইরে পেয়ে বল ঠিকানায় পাঠান এমবাপে।

৮৯তম মিনিটে পগবা বহিষ্কার হলে ম্যাচে ফেরার আশা শেষ হয়ে যায় স্বাগতিকদের। সুলশারের অধীনে ইউনাইটেডের এটি প্রথম হার। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচে অপরাজিত ছিল রেড ডেভিলরা। এর মধ্যে ১০টিতেই জিতেছিল দলটি। ইউরোপ সেরার মঞ্চে এসেই হলো ছন্দপতন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here