আরও একবার টপ অর্ডারের ধসে পড়া, পরে মোহাম্মদ মিঠুনের লড়াইয়ে মাঝারি পূঁজি। এবং সেই পূঁজি টপকে যেতে আরও একবার দুর্বার মার্টিন গাপটিলের সেঞ্চুরি। নেপিয়ারে প্রথম ম্যাচের মতো অনেক কিছুরই মিল ছিল ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় ম্যাচেও। ম্যাচের ফলেও হয়েছে হুবহু মিল। নিউজিল্যান্ডের এবারও কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই খুইয়ে বসেছে সিরিজও।

এর আগে নেপিয়ারে প্রথম ওয়ানডেতেও ৮ উইকেটের জয় পায় নিউ জিল্যান্ড। এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিল ব্ল্যাক ক্যাপরা।

হেনরি নিকোলসকে সঙ্গে নিয়ে দলকে ভালো একটি শুরু এনে দেন গাপটিল। ৪৫ রানের এই জুটিতে ফাটল ধরান মুস্তাফিজুর রহমান। তার বলে উইকেট ছাড়া হন ২৩ বলে ১৪ রান করা নিকোলস।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে জয়ের ভিত পেয়ে যায় নিউ জিল্যান্ড। অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসকে নিয়ে ১৪৩ রানের জুটি গড়েন গাপটিল। এই জুটি গড়ার পথে ৭৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ওয়ানডেতে এটা তার ষোলোতম শতক!

দলীয় ১৮৮ রানে মারকুটে গাপটিলকে থামান মুস্তাফিজ। ডিপ মিড উইকেটে লিটন দাসকে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১১৮ রান করেন কিউইদের টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান। তার ৮৮ বলের ইনিংসটিতে রয়েছে ১৪টি চার ও চারটি ছক্কা!

উইলিয়ামসন ও রস টেইলরের দৃঢ়তায় আর কোনো উইকেট না হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউ জিল্যান্ড। ৮৬ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন উইলিয়ামসন, ২০ বলে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন টেইলর।

এর আগে ৪৯.৪ ওভারে ২২৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। উল্লেখযোগ্য রান যা এসেছে মোহাম্মদ মিঠুন ও সাব্বির রহমানের ব্যাট থেকে। বাকিরা ছিলেন ফ্লপ।

হ্যাগলি ওভালে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টসে হারা বাংলাদেশ। ১৬ রানের মধ্যেই উইকেট ছাড়া হন দুই ওপেনার লিটন দাস ও তামিম ইকবাল।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন সৌম্য সরকার ও মুশফিকুর রহিম। কিন্তু কিউইদের গতির মুখে খুব বেশি এগুতে পারেননি তারা। দলীয় ৪৮ রানে এই জুটিকে থামান কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। ২৩ বলে তিন চারে ২২ রান করা সৌম্যকে উইকেট ছাড়া করেন এই পেসার।

প্রথম ওয়ানডের মতো দ্বিতীয়টিও ত্রাতার ভূমিকায় আসেন মিঠুন। মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ৩৩ রানের জুটি। দলীয় ৮১ রানে এই জুটির লাগাম টানেন পেসার লকি ফার্গুসন। ৩৬ বল খেলে ২৪ রানেই থামতে হয় দুইশোতম ওয়ানডে খেলার মাইলফলক স্পর্শ করা মুশফিককে। উইকেটে এসেই ফিরেন মাহমুদউল্লাহ।

দৃঢ়তার সঙ্গে উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রাখেন মিঠুন। সাব্বির রহমানের সঙ্গে গড়ে তোলেন ৭৫ রানের কার্যকরী এক জুটি। দলীয় ১৬৮ রানে উইকেট ছাড়া হন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে চতুর্থ অর্ধশতকের দেখা পাওয়া মিঠুন। টস অ্যাস্টলের বলে বোল্ড হওয়ার আগে করেন ৫৭ রান। তার ৬৯ বলের ইনিংসটিতে রয়েছে সাতটি চার ও একটি ছক্কার মার।

ন্যাপিয়ারে প্রথম ওয়ানডেতেও ৬২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মিঠুন।

দলীয় ১৯০ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জেমস নিশামের বলে হেনরি নিকোলসের হাতে ক্যাচ দেন ২০ বলে ১৬ রান করা মেহেদি হাসান মিরাজ।

দলীয় স্কোরে আর ১৬ রান জমা পড়তেই উইকেট ছাড়া হন সাব্বির। ৭ রান করতে পারলেই ওয়ানডেতে প্রায় দুই বছর ধরে অর্ধশতক না পাওয়ার ব্যর্থতাটা কাটতে পারত তার। ৬৫ বলে খেলা সাব্বিরের ৪৩ রানের ইনিংসটিতে রয়েছে সাতটি চারের মার।

মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারের বাকি বলগুলো খেলার চেষ্টা করেও পারেননি অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। তার আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে থেমে যায় বাংলাদেশ দলের রানের চাকা।

নিউ জিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে তিনটি উইকেট নেন পেসার ফার্গুসন। দুটি করে উইকেট নেন লেগস্পিনার টড অ্যাস্টল ও মিডিয়াম পেসার জেমস নিশাম। একটি করে উইকেট নেন ম্যাট হেনরি, ট্রেন্ট বোল্ট ও গ্র্যান্ডহোমের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ : ৪৯.৪ ওভারে ২২৬   (তামিম ৫ , লিটন ১, সৌম্য ২২, মুশফিক ২৪, মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ ৭, সাব্বির ৪৩, মিরাজ ১৬, সাইফুদ্দিন ১০, মাশরাফি ১৩, মোস্তাফিজ  ৫* ; হেনরি ১/৩০,  বোল্ট ১/৪৯, গ্র্যান্ডহোম ১/২৫, ফার্গুসেন ৩/৪৩, অ্যাস্টল ২/৫২, নিশাম ২/২১)

নিউজিল্যান্ড :    ৩৬.১ ওভারে ২২৯/২ (গাপটিল ১১৮, নিকোলাস ১৪, উইলিয়ামসন ৬৫* , টেইলর ২১* ; মাশরাফি ০/৩৭, সাইফুদ্দিন ০/৪৪, মিরাজ ০/৪২, মোস্তাফিজ ২/৪২, সাব্বির ০/২৮, সৌম্য ০/১০, মাহমুদউল্লাহ ০/২৫)

ফল: নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here