স্বপ্নের পদ্মা সেতুর অষ্টম স্প্যানটি ৩৫ ও ৩৬ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয়েছে। বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে স্প্যানটি বসানো হয়। এর ফলে দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর টানা ১ হাজার ২০০ মিটার।

এর আগে, শক্তিশালী ভাসমান ক্রেন তিয়ানি হাউ মাওয়ার মুন্সিগঞ্জের কুমারভোগের বিশেষায়িত জেডি থেকে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় স্প্যানটি নিয়ে জাজিরা পয়েন্টে পৌঁছায়। বুধবার ভোরে স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়। পদ্মা সেতু প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ূন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে অষ্টম স্প্যানটি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে স্প্যানটি জাজিরার নাওডোবার উদ্দেশে রওনা হয়। স্প্যানটি বিকেলে জাজিরার নাওডোবার প্রান্তে পৌঁছে। বুধবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে স্প্যানটি পিলারের ওপর বসানো হয়।

পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি তিন হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ক্রেন ‘তিয়ান ই’ দিয়ে মাওয়া থেকে জাজিরা প্রান্তে আনা হয়। জাজিরা নাওডোবা প্রান্তের ৩৫ ও ৩৬ নম্বর পিলারের ওপর ধূসর রঙের স্প্যানটি বসানো হয়।

এর আগে, ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর প্রথম স্প্যান, ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারের ওপর দ্বিতীয় স্প্যান, ১১ মার্চ ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের ওপর তৃতীয় স্প্যান, ১৩ মে ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারের ওপর চতুর্থ স্প্যান, ২৯ জুন ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের ওপর পঞ্চম স্প্যান ও সর্বশেষ গত ২৩ জানুয়ারি ৩৬ ও ৩৭ নম্বর পিলারের ওপর ষষ্ঠ স্প্যান বসানো হয়। এছাড়া মাওয়া প্রান্তে ৪ ও ৫ নম্বর পিলারের ওপর একমাত্র স্প্যানটি বসানো হয়। আর আজ বুধবার জাজিরার নাওডোবায় বসানো হলো আরেকটি স্প্যান। এ নিয়ে পদ্মা সেতুতে মোট স্প্যান বসলো আটটি।

পুরো সেতুতে মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি। একটি থেকে আরেকটি পিলারের দূরত্ব ১৫০ মিটার।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here