বাংলা ভাষাভাষীদের গৌরব ও ত্যাগের দিন মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আজ। ১৯৫২ সালের এই দিনে ঢাকার রাজপথে রক্ত ঢেলে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল বাঙালিরা।

তাদের সেই আত্মত্যাগ পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি।

দিবসটি উদ্‌যাপন করতে আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢল নামবে বিভিন্ন বয়সী অগণিত মানুষের।  ফুলের গুচ্ছ, স্তবক বা মালা থাকবে হাতে হাতে। তাদের কণ্ঠে থাকবে মর্মস্পর্শী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কী ভুলিতে পারি’।

কৃতজ্ঞ দেশবাসী বিনম্র শ্রদ্ধা জানাবে আজ থেকে ৬৭ বছর আগের এই দিনে মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের স্মৃতির প্রতি।

মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল ১৯৫২ সালে। ঢাকার রাজপথে সেদিন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সালাম, জব্বার, রফিক, বরকত, শফিউরসহ বীর সন্তানরা।  অমর একুশে উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন।

এ ছাড়া বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, বিএনপি বাণীতে ভাষাশহীদদের অমর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটির দিন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রভাতফেরি করে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে শহীদদের। সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

এ ছাড়া রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থান ও অন্যান্য স্থানে ভাষাশহীদদের কবরে ফাতেহা পাঠ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

একুশের প্রথম প্রহরে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে জেগে উঠবে দেশের মানুষ। প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান একুশের অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। তারা কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে মহান একুশের ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানাবেন। এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ ও আওয়ামী লীগ নেতারা, বিরোধী দলের নেতাকর্মী, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও দূতাবাস প্রধানেরা।

এদিকে তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালকরাও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপরই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সাধারণের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ও ডিন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন নেতারা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারাও। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষ একে একে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাবেন মহান ভাষাশহীদদের প্রতি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here