রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৭০ জন নিহত এবং অর্ধ-শতাধিক গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৬ জন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্তৃপক্ষ।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় রাসায়নিক দ্রব্যের গোডাউন থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেটি আশপাশের চারটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেনেন্স) মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ ঘটনাস্থলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, এখন পর্যন্ত ভবনগুলো থেকে ৭০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে যখন আগুন পুরোপুরি নেভানো যায়নি, সেসময় ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করার কথা জানান তিনি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করেছে তাদের ৩৭টি ইউনিট।

শাকিল নেওয়াজ আরও জানান, তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস। এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা মাহফুজ রিভান বলেন, নিহতদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আগুনে দগ্ধদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতালসহ আশেপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদরদপ্তর জানায়, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় তাদের ৩৭টি ইউনিট।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, পাঁচ নারী ও তিন শিশুসহ হাসপাতাল মর্গে ৬৫ জনের মরদেহ রাখা হয়েছে। আগুনে দগ্ধদের মধ্যে ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ২১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুরিহাট্টা এলাকায় পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় রাসায়নিক গোডাউন থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে মুহূর্তেই পাশের চারটি ভবনে এ আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার সকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদরদপ্তরের উপ-পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেনেন্স) দীলিপ কুমার বলেন, রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও অন্য ভবনগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ায় আগুন পুরোপুরি নেভাতে সময় লেগেছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চকবাজার এলাকায় ‘ওয়াহেদ ম্যানসন’ নামের একটি ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ভবনটিতে একটি মার্কেট ও একটি রাসায়নিক দ্রব্যের গোডাউন ছিল।

স্থানীয়রা জানায়, ওই ভবনটির তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় প্রায় ৪০ পরিবারের ৮০ জন সদস্য বসবাস করতেন।

এর আগে ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলী এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১২৪ জন নিহত হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here