সদ্য শেষ হওয়া আফগানিস্তান-আয়ারল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে আয়ারল্যান্ডকে নিয়ে রীতিমত ছেলে খেলা খেলল আফগানরা। ৩-০ তে সিরিজ হোওয়াইট ওয়াশ করেছে সব দাপুটে জয়ে। রেকর্ড বইয়ে হয়েছে অসংখ্য পরিবর্তন। আর এমন সিরিজে আফগান তারকা রাশিদ খান বাদ যান কীভাবে?

সিরিজের ২য় ম্যাচেই করেছেন কোন নির্দিষ্ট দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড, কাল শেষ ম্যাচে করলেন প্রথম স্পিনার হিসেবে টি-টোয়েন্টি হ্যাটট্রিক (ডাবল হ্যাটট্রিক- টানা চার বলে চার উইকেট)।

সিরিজ শুরু করার আগে টি-টোয়েন্টিতে কোন নির্দিষ্ট দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় সবার উপরে ছিলো পাকিস্তান অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদির নাম, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫ ম্যাচে নিয়েছিলেন ২১ উইকেট। তালিকার ২য় স্থানে ছিলো বাংলাদেশের পোস্টার বয় সাকিব আল হাসানের নাম ,  উইন্ডিজের বিপক্ষে তার শিকার ১০ ম্যাচে ১৯ উইকেট, তিনে থাকা রাশিদ খানের ছিলো আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ ম্যাচে ১৮ উইকেট।

সিরিজের ১ম ম্যাচে দুই উইকেট নিয়েই পেছনে ফেলেছেন সাকিব আল হাসান কে, আর দ্বিতীয় ম্যাচে এন্ড্রু বেলবিরাইকে সরাসরি বোল্ডে ছুঁয়ে ফেলেন আফ্রিদিকে। এরপর শেন গ্যাটক্যাটকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে ছড়িয়ে যান আফ্রিদিকে, ম্যাচে আরও দুই উইকেট নিয়ে আফ্রিদিকে সরিয়ে রাখেন নিরাপদ দুরত্বে।

কাল তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডকে ৩২ রানে হারিয়ে ধবলধোলাই করা ম্যাচে ডাবল হ্যাটট্রিক সহ পাঁচ উইকেট নিয়ে করেছেন অনন্য এক রেকর্ড, টি-টোয়েন্টিতে তিনিই একমাত্র স্পিনার হিসেবে করেছেন হ্যাটট্রিক । কালকের আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মোট ৬ জন বোলার হ্যাটট্রিক করেছেন কাকতালীয়ভাবে সবাই ছিলেন পেসার (ব্রেট লি, জ্যাকব ওরাম , টিম সাউদি, থিসারা পেরেরা, লাসিথ মালিঙ্গা, ফাহিম আশরাফ)!

এদিন রাশিদ গড়েন আরও একটি রেকর্ড, শুধু হ্যাটট্রিকেই থেমে থাকেননি নিয়েছেন টানা চার বলে চার উইকেট। লাসিথ মালিঙ্গা ছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই নেই কারও এমন কীর্তি। লাসিথ মালিঙ্গা ২০০৭ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডেতে চার বলে চার উইকেট নিয়ে নিশ্চিত হারা ম্যাচটাতে এনেছিলেন রোমাঞ্চ। কাল রাশিদ আয়ারল্যান্ড ইনিংসের ১৬ তম ওভারের শেষ বলে সেট ব্যাটসম্যান ও আয়ারল্যান্ডের জয়ের ভরসা হয়ে ওঠা কেবিন ও’ব্রায়েন কে শফিকুল্লাহর ক্যাচে পরিনণত করিয়ে শুরু, ১৮তম ওভারে ফিরে প্রথম তিন বলেই তুলে নেন ডকরেল , গ্যাটক্যাট ও সিমি সিং কে।

তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হলেও ভারতের দেরাদুনে রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামেই ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে ৫ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ এবং ১৫ মার্চ থেকে একমাত্র টেস্টটি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here