ভিয়েতনামের হ্যানয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। বৃহ্স্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুইদিনব্যাপী সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের বৈঠক শুরু হয়েছে। এদিনই তাদের মূল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে পরমাণু আলোচনা সফলে সর্বাত্মক চেষ্টা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন কিম। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও তাড়া নেই।  

 গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প-কিম ঐতিহাসিক বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে এক সমঝোতা চুক্তি হয়। যৌথভাবে কোরিয়া উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারে একমত হন তারা। তবে নিরস্ত্রীকরণের রূপরেখা সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় দু’দেশের মধ্যে দর কষাকষি চলছে। এ বছরের শুরু থেকে ট্রাম্প বেশ কয়েকবার কিমের সঙ্গে নতুন বৈঠকের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। উত্তর কোরীয় নেতার সঙ্গে কয়েকটি চিঠিও আদান-প্রদান হয়েছে তার। এক পর্যায়ে আলোচনার তারিখ ও ভেন্যু নির্ধারিত হয়। জানানো হয়, ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি ভিয়েতনামে ট্রাম্প ও কিমের দ্বিতীয় বৈঠক হবে।

কিম জং উন বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত অনেক কাজ করেছি। এবার হ্যানয়ে বসে চমৎকার এই সংলাপ শুর করেছি। আমি আশ্বস্ত করতে চাই যে আজ ভালো কোনও ফলাফলে আমি সর্বচ্চো চেষ্টা করবো।

জবাবে ট্রাম্প তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনার সঙ্গে আবার দেখা করে দারুণ লাগছে। আমি নিশ্চিত আগামী বছরগুলোতে আও অনেক দেখা হবে আমাদের। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি করি, চুক্তি হয়ে যাওয়ার পরও আমাদের দেখা হবে। গত রাতে আমাদের দারুণ কথা হয়েছে। অনেক পরিকল্পনার প্রস্তাব এসেছে। আমি মনে করি দুই দেশের সম্পর্ক এখন খুবই মজবুত।’

ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়া ও চেয়ারম্যান কিমের প্রতি সম্মান আছে এবং আমি জানি আমারা সাফল্য পাবো। তারাও অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে গড়ে উঠবে। আমি বারবারই একথা বলছি।

বুধবার আলোচনায় বসার আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প ও কিম একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেন। আলোচনা শেষে পাঁচ তারকা হোটেল মেট্রোপোলে নৈশভোজ সারেন তারা। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বুধবার সাংবাদিকদের ছোটখাটো কিছু প্রশ্নের জবাব দেওয়া এবং দুই নেতার একান্ত বৈঠকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল আলোচনা। ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার দুই নেতার মধ্যে বড় ধরনের বৈঠক হবে। এ বৈঠকে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর কিংবা উল্লেখযোগ্য সংবাদ সম্মেলন হতে পারে। বিবিসি বলছে, দুই নেতা একসঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠকে অংশ নেবেন, তবে তাদের সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচির ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।

বুধবার কিমের সঙ্গে বৈঠক করার আগে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও অন্য রাজনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন নেতা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here