ওয়ানডে সিরিজে টপ অর্ডার ব্যর্থ হওয়ায় দলও ভালো করতে পারেনি। তবে টেস্ট সিরিজের প্রথম দিনে ঘুরে দাঁড়ান তারা। ভাল রানও পেলেন। ঠিক সে সময় মাঝের এবং শেষের সারির ব্যাটসম্যানরা দ্রুত নিজেদের উইকেট বিলিয়ে ফেরেন। সফরকারীদের এমন ব্যর্থতায় হতাশ সেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবালও!

বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ড সফরের প্রথম টেস্টে হ্যামিল্টনে ২ উইকেটে ১২২ রান তুলে ফেলেছিল বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবেই সফরকারীরা স্বপ্ন দেখেছিলেন বড় সংগ্রহের। কিন্তু চা বিরতির পর সেটা আর পারেনি স্টিভ রোডসের শিষ্যরনা। আর তাই ২১ চার ও ১ ছয়ে ১২৮ বলে ১২৬ রান করেও দিন শেষে তামিম ইকবালও হয়েছেন হতাশ,‘এই রকম একটা ভাল শুরু পাওয়াটা অনেক বড় ব্যাপার ছিলো। টেস্টের প্রথমদিন, সবুজ উইকেট। বাতাসে সুইং। এমনসব কন্ডিশনে সাধারনত দেখা গেছে শুরুতে আমরা বেশ কয়েকটা উইকেট হারায় ফেলি। যেটা কিন্তু আগে আমাদের সঙ্গে ঘটেছেও। কিন্তু এখানে এত সুন্দর শুরুর পরেও সেটাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে না পারার একটা হতাশাও তো অবশ্যই আছে। এই সুযোগটা কাজে লাগাতে না পারায় পুরো দল কিছুটা হতাশ। কারণ আমরা সবাই জানতাম একটা সময় এই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তো আমাদের হাতেই ছিলো।’

গেল ওয়ানডে সিরিজে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তামিম। তবে পোশাক ও বলের রং বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে যেন বেদলে গেলেন তিনি। বৃহস্পতিবার হ্যামিল্টনে খেললেন ১২৬ রানের ঝনমনে ইনিংস। কিন্তু তার মনে আনন্দে নেই। সেটা থাকবেই বা কি করে? এ বাঁহাতির সতীর্থরা যে এদিন নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। বেশিরভাগ তারকারই বড় শর্ট খেলতে গিয়ে বিলিয়েছেন উইকেট।

হ্যামিল্টনের উইকেটে বৃহস্পতিবার যে আহামরি বল হয়েছে, তা বলা যাবে না। ভাল শুরুর পর তবে কেন পারলেন না টাইগার ব্যাটসম্যানরা। এর ব্যাখায় তামিম বললেন,‘প্রথম ইনিংসে আমার মনে হয় আমরা ভাল করতে করতে হঠাৎ করে ভুলটা করে ফেলেছি। নিল ওয়াগনার বল হাতে কি করবে সেটা তো আমাদের জানাই ছিলো। তাকে তো আমরা আগেও দেখেছি। খেলেছি। প্রশ্ন হলো তার বিপক্ষে কোন ব্যাটসম্যান কিভাবে খেলবে এটা তো সেই ব্যাটসম্যানদের ওপর নির্ভর করে। কেউ তার বলে শটস খেলতে পছন্দ করে। কেউ মাথা নিচু করে ছেড়ে দেয়। আমি তো তার শর্ট বল ছেড়ে দিয়েছি। আমি বলবো ওরা যে খুবই ভাল কিছু বোলিং করেছে তাও কিন্তু না। আমাদের আউট গুলো দেখলেই বোঝা যায় আমরা খুব যে ব্রিলিয়ান্ট কোন ডেলিভারিতে আউট হয়েছি তা নয়। ওরা যে পরিকল্পনা করেছিলো সেই পরিকল্পার ফাঁদে আমরা পা দিয়েছি। ভুল শটস খেলেছি। সাফল্যটা ওদের হাতে তুলে দিয়েছি।’

সবুজ উইকেটে একমাত্র তামিমই করেছেন সাবলীন ব্যাটিং। দলের ২৩৪ রানের মধ্যে তিনি একাই করেন ১২৬। এরমধ্যে মাত্র ৩৮ বলে আসে হাফসেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি করতে এ ডানহাতির আরো প্রয়োজন হয় ৬২ বলে। তাহলে কি আগেই থেকেই এখন খেলার পরিকল্পনা ছিল তামিমের? এর ব্যাখ্যায় ড্যাশিং এ ওপেনার বলেন, ‘আসলে খুব বিশেষ কোন পরিকল্পনা ছিলো না। তবে পরিস্কার একটা চিন্তা ছিলো লম্বা সময় ধরে ব্যাট করে যেতে হবে। মারার বল হতে মারতে হবে। আমার আওতার মধ্যে পাওয়া বলে ঠিকমতো শটস খেলতে পারছিলাম। ইনিংসের শুরুতে বেশ কিছু বাউন্ডারি পেয়ে যাই আমি। উইকেট সবুজ তবে ব্যাটিংয়ের জন্য খুবই ভাল উইকেট এটা। এই উইকেটে আমাদের আরো বেশি স্কোর করা উচিত ছিলো। সারাদিন ব্যাট করতে পারলে আমাদের স্কোর ৩০০ বা ৩৫০ রান হতে পারতো। এই উইকেটে সেটাই হতো ভাল স্কোর।’

হ্যামিল্টনে বৃহস্পতিবার দুর্দান্ত খেলেও ম্যাচ শেষে তামিমের কন্ঠ ছিল অনেকটাই শান্ত। আসলে দলের রান ২৩৪ হলে আর কি বা-ই বলার আছে ক্যারিয়ারে ৯ম সেঞ্চুরি পাওয়া এ হার্ডহিটারের?

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here