বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থান চিন্তা করে স্বল্পখরচে উন্নয়নের কৌশল নির্ধারণে প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া স্থাপনা নির্মাণের সময় কৃষিজমি ও জলাধার যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন সারাদেশে দৃশ্যমান। দেশে শিল্পায়ন যেন দ্রুত হয় সেজন্য ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প গড়ে তোলার সময় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, কৃষি জমি যাতে নষ্ট না হয়। জলাধারের যেন ক্ষতি না হয়। নদী ও খালবিল বাঁচাতে হবে। এতে পরিবেশ সুন্দর থাকে।

শনিবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন-বাংলাদেশের (আইইবি) চার দিনব্যাপী ৫৯তম কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কৃষিকে আধুনিকীকরণ করতে চাই, যান্ত্রিকীকরণ করতে চাই। শিক্ষিত লোকজন যাতে কর্মবিমুখ না হয়, তারা যেন প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষির সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারেন। এ জন্য গবেষণাও দরকার। কোন কোন ক্ষেত্রে গবেষণা দরকার, সেদিকে আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিই। গবেষণার মাধ্যমে আমাদের দেশের মাটি মানুষের উপযোগী করে নতুন নতুন উদ্ভাবন করতে হবে। এভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি তা খেলায় রাখতে হবে, সেটি মাথায় রেখেই উৎপাদন করতে হবে।

জলাধার রক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জলাধার রক্ষা করা দরকার। রাস্তা বা কোনও স্থাপনা নির্মাণের সময় এটি খেয়াল রাখতে হবে। ঢাকা শহরে খাল-পুকুর এখন পাওয়া যায় না। আগুন লাগলে পানি পাওয়া যায় না। জেলখানার পুকুর থেকে পানি সাপ্লাই দেওয়া হয়েছে চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে। জলাধার সংরক্ষণ করতে হবে।

বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা এনে দেওয়ার পর স্বাধীন দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জাতির জনকের দেখানো পথ অনুসরণ করছি। বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন সারাদেশে দৃশ্যমান। অনেকে বিস্মিত হয়ে বলেন, এতো অল্প সময়ে কিভাবে দেশকে এতো উন্নত করতে পারলাম!

দেশের উন্নয়নে প্রকৌশলীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন বলেই আমরা সাফল্য অর্জন করতে পারছি। নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও গবেষণা বাড়ানো দরকার। উৎপাদনের কৌশল উদ্ভাবন করা দরকার।

তিনি বলেন, ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে গবেষণায় গুরুত্ব দিয়েছিলাম বলেই বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। খাদ্য চাহিদা কখনও কমবে না। সামনে আরও নতুন নতুন প্রযুক্ত সংযুক্তি করে আমাদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৬ সালে আমরা সরকারে এসে দেখেছিলাম গবেষণার জন্য একটি টাকাও রাখা হতো না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের সীমিত বাজেট দিয়ে তাদের যেটা ইচ্ছে অনুযায়ী গবেষণা করতো। তাদের প্রতি কোনো দিকনির্দেশনা ছিলো না।

‘‘আমরা শুরুতেই গবেষণার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিলাম। যার ফলে আজকে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে নিজেরাই কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করেছি আমাদের উদ্ভাবনী শক্তিটা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা ধরে রাখতে গবেষণা সবসময় প্রয়োজন।’’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here