আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে শঙ্কামুক্ত নন জানিয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, তিনি হাত পা নাড়ছেন, চোখ মেলছেন এবং সাড়াও দিচ্ছেন।

এভাবে যদি ১০ ঘণ্টা থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে তিনি শঙ্কামুক্ত। রোববার পৌনে ছয়টার দিকে বিএসএমএমইউতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে চিকিৎসকরা এসব কথা বলেন।

এসময় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন, বিএসএমএমইউ’র কার্ডিয়োলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আলী আহসান। উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়াসহ অন্যরা।

আলী আহসান বলেন, ২৪ থেকে ৭২ ঘন্টা না যাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। এখনো উনি ক্রিটিকাল অবস্থায় আছেন। উনার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে আমি দোয়া প্রার্থনা করছি। এই অবস্থায় চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠালে স্ট্যাবিলিটি আনস্ট্যাবল হয়ে যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী যখন তার কাছে এসে ডাকলেন, তিনি চোখ মিটমিট করে তাকাচ্ছিলেন। আর রাষ্ট্রপতি যখন ডাকলেন তিনি চোখ বড় করে তাকিয়ে ছিলেন। আমাদের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম যখন ডাকলেন তখনও তিনি কিন্তু তিনি চোখ খুলে তাকিয়ে ছিলেন।

দেশের বাইরে চিকিৎসার ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার বিষয়ে আমাদের বলেছেন যারা চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা যদি মনে করেন, তবে তাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানো হবে। আর আমরা যদি প্রয়োজন মনে না করেন কিংবা যদি মনে করি তাকে পাঠানো হলে অবস্থার অবনতি হতে পারে তাহলে তাকে পাঠানো হবে না।

তারপরও বাইরে থেকে যদি কেউ চিকিৎসার জন্য আসেন তাহলে আমরা দেখব তাদের প্রয়োজনীয় লোকবল, এক্সপার্টিজ সবকিছু আছে কিনা। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের কন্ডিশনও বিবেচনায় আনতে হবে। আকাশে অবস্থা খারাপ হলে সাপোর্ট দিতে পারবে কিনা সেটাও বিবেচনায় আনতে হবে। সব কিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো। সিঙ্গাপুর থেকে যে টিম আসছে বলা হচ্ছে সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানে।

সংবাদ সম্মেলেন প্রফেসর সৈয়দ আলী আহসান ওবায়দুল কাদেরের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, উনার রাত সাড়ে তিনটার দিকে অ্যাটাকটা হয়। উনার বাসা থেকে আমাদের এখানে কল করা হয়। তখন আমাদের একজন ডাক্তার উনার বাসায় যায় এবং উনার অবস্থা দেখে নিজে ড্রাইভ করে সরাসরি আইসিসিইউতে ভর্তি করান। আমি যখন কল পাই তখন সকাল ৮টা।

এরপর ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে তিনি বলেন, দুই ঘন্টা উনি খুব ভালো ছিলেন। তারপর দেখা গেল, প্রেশার আবার কিছুটা কমে যাচ্ছে। আবারও কিছুক্ষণ পর ওঠে। অনেক রকম প্রবলেম দেখা দিল। তখন আমরা সবাই মিলে পরামর্শ করে ঠিক করলাম যে, আইবিপিপি প্রতিস্থাপন করবো। এই যন্ত্র প্রেশারকে মেইনটেইন করে। সেটা দেওয়ার পরে হোমোডেকাইনামিলি স্ট্যাবল আছেন। চোখ খুলছেন, কথা বলছেন কিন্তু ক্রিটিক্যালি স্ট্রেজেই বলবো। আমরা আরও কিছুক্ষণ দেখবো এই হেমোডেনাইমিক স্ট্যাবল যদি কিছুক্ষণ স্টাবল থাকে তাহলে আমাদের সিদ্ধান্ত দুইটা হবে। আমরা মেডিকেল থেরাপি বা বাইপাস সার্জারি করবো। অন্যান্য যে নালীগুলোয় ব্লক আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ওবায়দুল কাদেরকে দেখে সার্বিক নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ওবায়দুল কাদেরের কাছে যেন কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া না হয়।

ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদের চিকিৎসাসেবা যেন ব্যাহত না হয় সেজন্য উপাচার্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

রোববার ভোররাতে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে সকাল পৌনে আটটার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে বিএসএমএমইউ’র কার্ডিয়াক বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, আইসিইউ’তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

চিকিৎসকদের পরামর্শে ওবায়দুল কাদেরকে প্রয়োজনে যেকোনো সময় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দেশের বাইরে নেয়ার প্রস্তুতি আছে বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here