মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের ভেনিজুয়েলা বিরোধী বক্তব্যকে অবমাননাকর বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি বলেছেন, বোল্টন তার বক্তব্যের মাধ্যমে শুধু ভেনিজুয়েলা নয় সেইসঙ্গে ল্যাতিন আমেরিকার সবগুলো দেশকে অপমান করেছেন।

জন বোল্টন সম্প্রতি বলেছিলেন, ভেনিজুয়েলার চলমান রাজনৈতিক সংকটের ব্যাপারে মার্কিন সরকার ‘মনরো ডকট্রিন’ অনুসরণ করছে।  তিনি দাবি করেন, মনরো ডকট্রিন অনুযায়ী ওয়াশিংটন ল্যাতিন আমেরিকার দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাখে।

ল্যাভরভ আরো বলেন, কিছুদিন আগেও মার্কিন কর্মকর্তারা হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ভেনিজুয়েলার পর কিউবা ও নিকারাগুয়ায় হাত দেবে আমেরিকা। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বোল্টনসহ মার্কিন কর্মকর্তাদের এ ধরনের অবমাননাকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে ল্যাতিন আমেরিকার দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত।

ঊনবিংশ শতাব্দির গোড়ার দিকে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো প্রথম মনরো ডকট্রিন উত্থাপন করেন। ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর আগ্রাসন থেকে আমেরিকা মহাদেশকে রক্ষা করার লক্ষ্যে এই ডকট্রিন উত্থাপন করা হয়েছিল।

কিন্তু বিগত দশকগুলোতে মার্কিন সরকার ল্যাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে অবৈধ হস্তক্ষেপ করে নিজের পদলেহী সরকারকে ক্ষমতায় বসাতে এই ডকট্রিনের অপব্যবহার করেছে।

বোল্টন তার বক্তব্যে পরিষ্কার করে দিয়েছে, ভেনিজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে সরকার বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইডোকে ক্ষমতায় বসাতে ওয়াশিংটন বদ্ধপরিকর। তবে রাশিয়া ও চীনের মতো দুই বৃহৎ শক্তির বিরোধিতা উপেক্ষা করে আমেরিকা এ কাজে কতটা সফল হয় তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন পর্যবেক্ষকরা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here