প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথম লেগে জয় পেয়েও ফিরতি লেগে নিজেদের মাঠে বড় অঘটনের শিকার হলো রিয়াল মাদ্রিদ। নেদারল্যান্ডসের ক্লাব আয়াক্সের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হলো প্রতিযোগিতাটির টানা তিনবারের শিরোপাধারীদের।

সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে মঙ্গলবার রাতে শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতাটির সবচেয়ে সফল দল রিয়ালকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় আয়াক্স। এর আগে নিজেদের মাঠে ২-১ গোলে হেরেছিল দলটি। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে পরের রাউন্ডে গেল ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরুতেই নিজেদের ভুলে দুটি গোল খেয়ে বসে রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিলেও উজ্জীবিত আয়াক্সকে বড় জয় থেকে ঠেকাতে পারেনি স্পেনের সবচেয়ে সফল ক্লাব।

ম্যাচের অষ্টাদশ মিনিটের মধ্যেই অতিথিদেরকে দুটি গোল এনে দেন ডাচ মিডফিল্ডার হাকিম জিয়ে ও ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড দাভিদ নেরিস। গোল দুটিতেই বড় অবদান ছিল সার্বিয়ান দুসান তাদিচের।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে নিজেও জালের দেখা পান তাদিচ। ৬২তম মিনিটে দলকে এনে দেন তৃতীয় গোলটি। সতীর্থ ডনি ফন ভিকের দ্রুত গতির পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকেই বাঁ পায়ে উঁচু করে নেওয়া শটে জালে জড়ান তাদিচ।

ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে রিয়াল। ৭০তম মিনিটে একটি গোল করে আশা সঞ্চার করেন মার্কো আসেনসিও। সের্হিও রেগিলনের ক্রস থেকে ডি-বক্সের মাঝামাঝি থেকে গোল করে কিছুটা ব্যবধান কমান স্প্যানিশ এই উইঙ্গার।

দুই মিনিটের মধ্যেই রিয়াল শিবিরে আবারো নীরবতা নামিয়ে আনেন আয়াক্সের লেসে শুন। লম্বা এক ফ্রি-কিক থেকে গোলটি করেন ডেনিস মিডফিল্ডার।

গত শনিবারে ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার কাছে হারার ম্যাচে দুয়ো শোনা গ্যারেথ বেলকে আয়াক্সের বিপক্ষে শুরুর একাদশে নামাননি সোলারি। ২৯তম মিনিটে লুকাস ভাসকেসের বদলি হিসেবে নেমে বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি ওয়েলস উইঙ্গার।

যোগ করা সময়ে রিয়াল নেমে আসে ১০ জনের দলে। ডাচ মিডফিল্ডার রন দে ভিককে পেছন থেকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সের্হিও রামোস।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ঘরের মাঠে টানা চার ম্যাচ হারলো রিয়াল। এর মধ্যে দুই পরাজয় চির প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে!

২০১০ সালের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিল রিয়াল। প্রতিযোগিতাটির গত আট আসরের সব কয়বারই সেমি-ফাইনাল খেলে তারা।

শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে দিনের অপর লড়াইয়ে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মাঠে ১-০ গোলের জয় পায় টটেনহ্যাম হটস্পার। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ২০১১ সালের পর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here