পাটশিল্প আবারো লাভের মুখ দেখবে ও পাটের সোনালী দিন ফিরে আসবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পাট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, পাটকে আমরা সোনালী আঁশ বলি। আমার বিশ্বাস, পাট নিয়ে গবেষণা করে নতুন নতুন পণ্য উদ্ভাবন করে আমরা একে লাভজনক পণ্যে পরিণত করতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  পাট চাষ ও আঁশ ছাড়ানোর জন্য আমরা আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করছি। নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছি, যাতে এ শিল্পকে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়। পাটের বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। দেশে-বিদেশে পরিবেশবান্ধব পাট পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমার বিশ্বাস, পাটের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনতে পারবো।

তিনি বলেন, পাটপণ্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে। এভাবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে। প্রাইভেট পাটনারশিপের মাধ্যমে বিশ্বের কোথায় কোথায় পট ও পাটপণ্যের বাজার রয়েছে তা খুঁজে বের করতে হবে। এ সেক্টরে বেসরকারি খাত এগিয়ে আসছে। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশ এগিয়ে যাবে। পাটের তো কিছুই ফেলা যায় না। তাহলে পাটে লোকসান হবে কেন? পাট নিয়ে লোকসান লোকসান করব কেন? বরং কিভাবে একে লাভজনক করা যায়, তা বের করতে হবে। আমি হতাশ পার্টির সঙ্গে নেই, আমি সবসময় আশাবাদী।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পাট কৃষিপণ্য হিসেবে প্রণোদনা পেতে পারে। আবার পাটজাত পণ্য রফতানিযোগ্য বলে সেখানেও প্রণোদনা পেতে পারে। আমাদের প্রয়োজন পাটের অভ্যন্তরীণ চাহিদার হিসাব করার পাশাপাশি পাটের বিশ্ববাজার খুঁজে বের করা। আমার বিশ্বাস, পাট নিয়ে গবেষণা করে নতুন নতুন পণ্য উদ্ভাবন করে আমরা একে লাভজনক পণ্যে পরিণত করতে পারব।

পাটের বহুমুখী ব্যবহার তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, পাট পাতা শাক হিসেবে খাওয়া হয়। বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় এই পাট শাকের ব্যবহার রয়েছে। পাটের যে ভেতরের যে অংশ, যেটাকে আমরা পাটখড়ি বলি, সেটারও অনেক ব্যবহার রয়েছে। আমরা পাটখড়ি দিয়ে ছোটবেলায় খেলতাম। পাটখড়ি দিয়ে ঘরের বেড়াও দেওয়া হতো। আর পাট দিয়ে নতুন নতুন অনেক পণ্য তৈরি হচ্ছে। পাট দিয়ে এখন যে সোনালি ব্যাগ হচ্ছে তা পরিবেশবান্ধব, সাধারণ পলিথিনের মতো নয়। এটা মাটিতে মিশে যাবে। আরও নতুন নতুন পণ্য উদ্ভাবন করতে হবে। আর এসব পণ্যের জন্য বাজার খুঁজতে হবে। ঠিকমতো মার্কেটিং করতে পারলে পাটের সেই সোনালি সুদিন ফিরে আসবে- এটাই আমার বিশ্বাস।

পাট শিল্পের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু পাটের ন্যায্য মূলের দাবিতে অনেক আগে থেকেই সংগ্রাম করেছেন। সে লক্ষ্যে তিনি স্মারকলিপি দিয়েছেন ১৯৫২ সালে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here