যারা অসাধু ব্যবসায়ী। তারা ব্যাংকের টাকা নিয়ে ভুল জায়গায় ব্যবহার করছেন এবং ব্যাংকে টাকা ফেরত দিচ্ছেন না, তাদের কোনো ছাড় নয়। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের সহায়তাকারী ব্যাংক কর্মকর্তাদেরও খুঁজে বের করা হবে।

বুধবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ  ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন-২০১৯ এ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ কথা বলেন।

ব্যাংকিং কোন ছেলেখেলা নয়। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকতে হলে ব্যাংকিং সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন। যারা ব্যাংকিং বোঝে না তাদের বোর্ডে রাখা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের জন্য শ্রেণিকৃত ঋণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমি প্রতিজ্ঞা করেছি এই ঋণ ভবিষ্যতে আর এক টাকাও বাড়বে না বরং কমবে। সেজন্য আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে স্পেশাল অডিটের ব্যবস্থা করা হবে। এটা আমি কাউকে জেলে পাঠানোর জন্য করতে চাই না। জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্যই করতে চাই।

তিনি বলেন, আমাদের এই খাতে অনেক অসাধু লোক আছেন এবং ভাল লোকও আছেন। তবে যারা অসাধু লোকদের চিহ্নিত করে দেন না তারাও অপরাধী বলে বিবেচিত। এখনো পর্যন্ত কেউ আমার কাছে এমন অভিযোগ করেননি যে অমুক ব্যক্তি অসাধু। তাকে এই জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করুন। এই জায়গাটায় পরিবর্তন নিয়ে আসা উচিত বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ব্যাংকে যারা আমানত রাখেন তারা আমাদের দেশের একেবারে নিম্ন পর্যায়ের মানুষ। যারা এসব কৃষক, শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের টাকা আত্মসাৎ করে তারা মোটেও ভালো কাজ করে না। তাদের জন্যই আজ ব্যাংকের প্রতি জনগণের আস্থা কমে গেছে। লোকজন ব্যাংককে বিশ্বাস করতে চায় না।

কোনো ব্যবসায়ী অপরাধ করে যদি আমার কাছে ক্ষমা চায় তাহলে তাকে আমি মাফ করে দেবো। কিন্তু যে অপরাধী অপরাধ স্বীকার করবে না তার কোন নিস্তার নেই। ব্যবসায় অনেক সময় বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে লোকসানে পড়তে হয়। সেই বিষয়টিও বিবেচনা করে দেখা হবে, যোগ করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, একটি সময় আমাদের দেশ দারিদ্র্যের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত ছিল। এখন আমরা উন্নয়নের মডেল হিসেবে বিবেচিত। তবে অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য এই খাতে বেশকিছু সংস্কারমুখী পদক্ষেপের দরকার। আমি আস্তে আস্তে সবগুলোই পরিবর্তন করব, এজন্য আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম।

 

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here