কলেরা রোগ শনাক্ত হবে ১৫ মিনিটেই। কলেরা রোগ শুরুতে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে শনাক্ত করার এ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষকেরা।

ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তিন বছরের প্রচেষ্টায় এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) আইসিডিডিআরবি এর ওয়েভ সাইডে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ঘরে বসে নির্দেশনা অনুযায়ী নিজেই এ পরীক্ষা করতে পারবেন।

এতে বলা হয়, গবেষকেরা স্থানীয়ভাবে কলকিট নামের একটি ডিপস্টিক তৈরি করেছেন। এই কলকিট দ্রুত রোগনির্ণয় পরীক্ষায় (আরডিটি) ব্যবহার করা হয়। কলকিট আরডিটি মলে ভিব্রিও কলেরি ব্যাকটেরিয়া চিহ্নিত করতে সক্ষম।

এটি এমন একটি ইমিউনোক্রোমাটোগ্রাফিক ডিপস্টিক পরীক্ষা পদ্ধতি যা মলের নমুনাযুক্ত টিউবের মধ্যে ডুবালে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের মধ্যে যথাযথ ফলাফল (খালি চোখে দৃশ্যমান রঙ্গীন ব্যান্ড) প্রদর্শন করে।

কলকিটের গবেষণাগার ও মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষা-সংক্রান্ত একটি নিবন্ধ সম্প্রতি ‘প্লস নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজে’ নামক বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

নিবন্ধে বলা হয়, মাঠ পর্যায়ে ভিব্রিও কলেরি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কলকিটের সংবেদনশীলতা ও নির্দিষ্টতা বিদেশি আরডিটি’র অনুরূপ। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মোট সাত হাজার ৭২ রোগীর মলের নমুনা পরীক্ষা করা হয় যেখানে দেখা গেছে, কলকিটের সংবেদনশীলতা ৭৬ শতাংশ ও নির্দিষ্ট ফল পাওয়া যাবে ৯০ শতাংশ।

অপরদিকে অন্যান্য প্রচলিত আরডিটির ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফল যথাক্রমে শতকরা ৭২ ও ৮৬.৮ শতাংশ।

আইসিডিডিআরবির সংক্রামক রোগ বিভাগের বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী কলকিট তৈরির কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, কলেরা রোগের দ্রুত শনাক্তকরণের ওপর এ রোগের ব্যবস্থাপনা নির্ভর করে।

ফেরদৌসী কাদরী বলেন, ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায় যে, এই অঞ্চল থেকেই বিশ্বের সাতটি মহামারীর সবগুলোর বিস্তার ঘটেছে। কলেরা রোগের দ্রুত শনাক্তকরণের ওপর এ রোগের ব্যবস্থাপনা নির্ভর করে। বর্তমানে কলেরা শনাক্তকরণের উদ্দেশ্যে গবেষণাগারে মলের কালচার পরীক্ষার পাশাপাশি আমদানি করা দ্রুত রোগ নির্ণয় কিট ব্যবহৃত হচ্ছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here