নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অনেকে। হামলার সময় মসজিদের কাছেই ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। যদিও তারা সবাই সুরক্ষিত আছেন বলেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে। এ দিনের হামলায় পরই গোটা এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ঘটনায় চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজন মহিলা।

তখন ঘড়িতে বেলা পৌনে ২টা। মসজিদের ভিতরে চলছে সাপ্তাহিক নামাজ পর্ব। জড়ো হয়েছিলেন বহু মানুষ। হঠাৎ পর পর গুলির শব্দ। দিকভ্রান্তের মতো ছুটোছুটি পড়ে গেল মসজিদের ভিতর। সেনার পোশাকে থাকা বন্দুকবাজ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে চলেছে তখনো। মুহূর্তে রক্তে ভেসে গেল মসজিদ চত্বর। সরকারি সূত্রে খবর, মৃ্ত্যু হয়েছে অন্তত ৪০। এই হামলার ঘটনাটিকে দেশের অন্ধকারতম দিনগুলির মধ্যে একটি বলে বিবৃতি দিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডার্ন।

ঘটনাস্থল নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের সাউথ আইল্যান্ডের আল নুর মসজিদ। শুক্রবার এখানেই এক (যদিও কারও কারও দাবি দুজন) বন্দুকবাজের হামলায় প্রাণ হারালেন কমপক্ষে ছয়জন। আহত বহু। যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই গুরুতর। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, সেনার পোশাকে মসজিদের ভিতর ঢুকেছিল ওই বন্দুকবাজ। মসজিদে প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি চলে।

এ দিনের হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। হামলার সময়ই মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন তারা। এই মুহূর্তে নিউ জিল্যান্ড সফরে রয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। হামলার পর বাংলাদেশের ক্রিকেটার তামিম ইকবাল টুইট করে জানিয়েছেন, সব ক্রিকেটারই সুরক্ষিত আছেন। টুইট করে একই কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, কালো পোশাকে মসজিদের ভিতর ঢুকেছিল ওই বন্দুকবাজ। তার কথায়, ‘‘আমি তখন মসজিদের অন্য একটি দরজার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। সাপ্তাহিক নমাজ পাঠ চলছিল। হঠাৎ গুলি চালাতে শুরু করে ওই বন্দুকবাজ। আমি কম করে চার-পাঁচ জনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। বরাত জোরে মসজিদ থেকে পালাতে পেরেছি।”

এ দিনের হামলার পরই নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷ গোটা এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। এখনো গুলির লড়াই চলছে বলে জানা গেছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here