নিউ জিল্যান্ডে দুটি মসজিদে ঢুকে ভিডিও গেমস খেলার মতো গুলি করে কমপক্ষে ৪০ মুসল্লিকে হত্যা করেছে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী সন্ত্রাসীরা। সেইসঙ্গে হামলার পুরো ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারও করে এক বন্দুকধারী।

জুমার নামাজ চলাকালীন ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে এ বন্দুক হামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ জন মুসল্লি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন।

ভিডিওতে দেখা যায়, মসজিদে ঢুকেই নির্বিচারে গুলি করা শুরু করে বন্দুকধারী। মসজিদের একাধিক রুমে অবস্থানরত মুসল্লিদের পালিয়ে বাঁচার কোনো সুযোগ দেয়নি সে। নামাজের মূল ঘরের আগে গলিসহ একাধিক রুমে হেঁটে হেঁটে একের পর এক গুলি চালিয়ে গেছে।

গুলির শব্দে নামাজের মূল ঘরের কোনায় ও দেয়াল ঘেঁষে ভয়ে জড়ো হয়ে থাকা মুসল্লিদের নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গেছে ওই বন্দুকধারী। হত্যা নিশ্চিত করতে অনেকের ওপরে একাধিকবার গুলি চালাতেও দেখা গেছে তাকে।

শুরুতে দেখা যায়, আল নুর মসজিদের সামনে রাস্তায় গাড়ি রাখে হামলাকারী। গাড়ির সামনের সিটে এবং পেছনের বুটে অস্ত্র ও গোলাবারুদে ভর্তি ছিল। গাড়ি থেকে থেকে নেমে ওই হামলাকারী নিজেকে অস্ত্র সজ্জিত করে। আধা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও বিস্ফোরক সহকারে হেঁটে মসজিদে প্রবেশ করে।

হামলার একপর্যায়ে বন্দুকধারী মসজিদ থেকে বের হয়ে গাড়ির বুট থেকে আরও অস্ত্র নিয়ে আসে। হতাহতদের তল্লাশি করে বেঁচে থাকা মুসল্লিদের ওপর আবারও গুলি চালায়।

ডেইলি মেইল জানায়, হামলায় অংশগ্রহণকারী এক বন্দুকধারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। টুইটারে ওই হামলাকারী নিজের পরিচয় দিয়েছে ব্রেনটন ট্যারেন্ট নামে। সে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রাফটন থেকে এসেছে বলে জানা গেছে।

দুইজন বন্দুকধারী ক্রাইস্টচার্চের ডিনস অ্যাভিনিউর আল নুর মসজিদ ও পার্শ্ববর্তী লিনউডের মসজিদে হামলা চালায়। স্ট্রিকল্যান্ড স্ট্রিটে একটি গাড়িবোমা হামলার ঘটনাও ঘটেছে। হাসপাতালের বাইরে আরও একজন বন্দুকধারীকে দেখা গেছে বলে জানায় পুলিশ।

ক্রাইস্টচার্চে হেগলি ওভাল মাঠের খুব কাছের আল নুর মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর বন্দুক হামলার ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়েরা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here