পাকিস্তানের জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেদেশের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোয় প্রধান বিরোধী দল তাকে ‘লাভ লেটার’ বলে কটাক্ষ করেছে।

কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সূর্যেওয়ালা গতকাল (শনিবার) এক সংবাদ সম্মেলনে বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ‘আমরা দেখেছি যে, মোদিজি পাকিস্তানের জাতীয় দিবসে ইমরান খানকে লুকিয়েচুরিয়ে প্রেমপত্র লিখেছেন। কিন্তু তাতে তিনি পাকিস্তান প্রযোজিত সন্ত্রাস, সন্ত্রাসী সংগঠন ও আইএসআইয়ের সন্ত্রাসবাদের কথা আলোচনা করতে ভুলে গেছেন। মোদিজি এটাই কি আপনার দেশপ্রেম?’

তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনাকে চাপা দিতে মোদিজি অমিত শাহকে মাঠে নামিয়েছেন। দেশবাসীর পক্ষ থেকে আমরা মোদিজি ও অমিত শাহকে (বিজেপি সভাপতি) কিছু প্রশ্ন করতে চাই। মোদিজি আপনি প্রেমপত্রে লস্কর-ই-তৈয়েবা, জৈশ-ই-মুহাম্মদ, দাউদ ইব্রাহিম ও অন্য সন্ত্রাসীদের কথা কেন বলেননি?’

কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সূর্যেওয়ালার প্রশ্ন, ‘মোদিজি বিনা দাওয়াতে কেন পাকিস্তানে গিয়েছিলেন? পাঠানকোট হামলার পরে আইএসআইকে কেন ডেকেছিলেন? অমিত শাহ কেন আইএসআইয়ের প্রশংসা করেছিলেন? এটা কী সত্যি নয় যে বিজেপি’র আইটি সেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধ্রুব সাক্সেনা পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য ধরা পড়েছিল? মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা একনাথ খাড়সের দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে সংলাপের টেপকে তদন্ত করা হয়নি কেন? এটা কী সত্যি নয় যে, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পিডিপি নেতারা পাকিস্তানের প্রশংসা করেছিলেন?’

তিনি বলেন, ‘দাউদ ইব্রাহিমের স্ত্রী ভারতে এলেও মোদি সরকার তাঁকে গ্রেফতার করেনি, কেন এমনটা হয়েছিল? মোদি ও অমিত শাহ’র সরকার জাতীয় স্বার্থের ক্ষতি করেছেন। এজন্য তাঁদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে (কাশ্মিরে) পুলওয়ামার সন্ত্রাসী হামলা মোদি সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা বলেও কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র রণদীপ সূর্যেওয়ালা মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিএসপি নেত্রী মায়াবতী ওই ইস্যুতে বিজেপির সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এক দিকে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য তীব্র পাকিস্তান-বিরোধী অবস্থান ও আক্রমণাত্মক বিবৃতি। কিন্তু অন্যদিকে, পাক প্রধানমন্ত্রীকে গোপনে শুভেচ্ছাপত্র পাঠানো। দেশের ১৩০ কোটি মানুষের সঙ্গে বিজেপির এই ছল-চাতুরির রাজনীতি কেন?’ জনগণকে এজন্য সতর্ক থাকা উচিত বলেও মায়াবতী মন্তব্য করেছেন।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের জাতীয় দিবসে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু সরকার তা গোপন রাখার চেষ্টা করলেও ওইদিন রাতে সেই শুভেচ্ছা বার্তা টুইট করে দেন ইমরান। বিষয়টি জানাজানি হতেই কেন্দ্রীয় সরকারকে চেপে ধরেছে বিরোধীরা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here