বিশ্বকাপে গেলবার বাজিমাত করেছিল বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবার খেলেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। সেই স্মৃতি এখনও অম্লান টাইগার ভক্তদের হৃদয়ে। এবার আবারও এসেছে সেই বিশ্বকাপ। ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসরকে ঘিরে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে প্রতিদিনই একটু একটু করে বাড়ছে উত্তেজনা, কৌতুহল আর প্রত্যাশা।

সবকিছু ছাপিয়ে এবারের আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্কোয়াড কেমন হবে সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। গুণে গুণে ৭-৮ জন খেলোয়াড়ের নাম বলে দেয়া যাবে যারা বিশ্বকাপে খেলবেনই। তার বাইরে ১৫ সদস্যের যে দল সেখানে কাদের জায়গা হবে, আর কারাইবা বাদ যাবেন- এ নিয়ে বিশ্লেষণের যেন শেষ নেই ক্রিকেটপাগল মানুষের।

এবার সেই কৌতুহল কিছুটা হলেও মিটিয়ে দিয়েছেন খোদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তিনি জানিয়েছেন, কারা থাকছে বিশ্বকাপ দলে।

বিসিবি সভাপতি ক্রিকেটারদের পজিশন ধরে ধরে এক এক করে নামগুলোও বলে দিয়েছেন। যেখানে ওপেনিংয়ে তামিম ও লিটন; তিনে সাকিব; চারে মুশফিক; পাঁচে মিঠুন; ছয়ে মাহমুদউল্লাহ, সাত ও আটে সৌম্য/সাব্বির/সাইফউদ্দিন/মিরাজ; নয়ে মাশরাফি, দশে রুবেল/তাসকিন, এগারো নম্বরে মোস্তাফিজ। এই ১৪ জনের বাইরে দলে থাকতে পারেন মোসাদ্দেক। এই সর্বমোট ১৫ সদস্যের দল।

নাজমুলের স্কোয়াড অনুযায়ী প্রতিযোগিতাটা সবচেয়ে বেশি ৭ ও ৮ নম্বরে। যেখানে রয়েছে ৪ ক্রিকেটারের নাম।

নাজমুল বলেছেন, ‘সাত নম্বরে যদি দেখেন কে কে আছে, সাইফউদ্দিন আছে, মিরাজ আছে,সাব্বির আছে। আবার সৌম্য অনেক সময় নিচে নামতে পারে। কে খেলছে সেটা আমি এখনো জানি না। যদি ধরেন তামিম আর লিটন ওপেন করে, তাহলে তিন নম্বরে সাকিব খেলার সম্ভাবনা খুব বেশি। ও ওখানে খেলতে চায়। চারে তো মুশফিক। পাঁচে মিঠুন বা এ রকম কেউ একজন। ছয়ে রিয়াদ।’

এরপরই তিনি বলেন, ‘সাতে তখন সৌম্য আসতে পারে। এ ছাড়া আছে সাব্বির। এখন সাব্বির আছে, সাইফউদ্দিন আছে। কারণ তিন পেসার তো খেলাবে। মোস্তাফিজ আর মাশরাফির একাদশে থাকা নিশ্চিত। আরেকটা পজিশনের জন্য রুবেল আছে, তাসকিন আছে। একটা স্পিনার যদি খেলাতে হয়, তাহলে মিরাজকে নিতে হবে।’

তবে পরিস্থিতি বুঝে ম্যাচ বাই ম্যাচ পরিকল্পনা পাল্টানো হতে পারে বলেও জানান বিসিবি বস। তার ভাষ্য, ইংল্যান্ডের কন্ডিশন আলাদা। উপমহাদেশের মতো নয়। সেখানে বলে গতি দরকার। রুবেলের গতি আছে। মোস্তাফিজ-সাইফুদ্দিনদের গতি কিছুটা কম। তাসকিন লাইন-ল্যান্থে বল করতে পারলে ভালো করতে পারবে।

তবে নেপাল ও আফগানিস্তানের মতো দেশ যেখানে বিশ্বমানের একজন লেগস্পিনার পেয়েছে সেখানে বাংলাদেশ এই অভাবটা এখনও ঘুচাতে পারেনি।

এ ব্যাপারে পাপন বলেন, ‘প্রত্যেকটা দেশের একটা করে লেগ স্পিনার আছে। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যার কোনো লেগ স্পিনার নেই। কথা হয়েছে এই নিয়ে। তবে এক্ষুনি নিতে পারব না।’

সবমিলিয়ে বলাই যেতে পারে, বাংলাদেশ দলে একটা স্থিতি আছে। খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা আছে। নইলে বিশ্বকাপের দুইমাসেরও বেশি সময় হাতে রেখে এভাবে দল বাছাই করা কঠিনই হতো।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here