যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে ইথিওপীয় এয়ারলাইন্সের ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই বিমান বিধ্বস্তে নিহত রুয়ান্ডান নাগরিক জ্যাকসন মুসোনির পরিবারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) এ মামলা করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইথিওপীয় এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এটিই প্রথম মামলা। তবে এ নিয়ে গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বোয়িং।

২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ শহর পাঙকাল পিনাঙয়ের উদ্দেশে যাত্রার পর জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয় লায়ন এয়ারের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ মডেলের একটি বিমান। এতে সেখানে থাকা ১৮৯ আরোহীর সবার মৃত্যু হয়। ওই বিমান বিধ্বস্তের পর তদন্তকারীরা বলেছিলেন, এতে যুক্ত করা নতুন সুবিধা হিসেবে আকাশে ভেসে থাকার এক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার সঙ্গে পেরে ওঠেননি পাইলটেরা।

এ ঘটনার পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে (১০ মার্চ) ১৫৭ জন আরোহী নিয়ে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ মডেলের বিমান বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, বিমান বিধ্বস্তের কারণ হিসেবে প্রযুক্তিগত সংকট কিংবা মানুষের ভুলের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নতুন করে ম্যাক্স ৮ বিধ্বস্ত হওয়ার পর বোয়িং এর উপর চাপ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে বিশ্বে ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের সব বিমান চলাচল স্থগিত করে বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহস্পতিবার সে বোয়িং এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে শিকাগোতে ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং ত্রুটিপূর্ণভাবে তাদের স্বয়ংক্রিয় ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার নকশা করেছে। মামলার অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, বিমানের ত্রুটিপূর্ণ সেন্সর নিয়ে জনগণ, এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ ও পাইলটদেরকে সতর্ক করতে ব্যর্থ হয়েছে বোয়িং। সেকারণে বিমানটি স্বয়ংক্রিয় ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলছিলো।

ওই মামলার ব্যাপারে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বোয়িং এর মুখপাত্র বলেন, ‘নতুন করে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনায় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে বোয়িং।’ ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ওই দুর্ঘটনা নিয়ে চলমান তদন্ত সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন থাকলে তা সরাসরি তদন্ত কর্তৃপক্ষকে করতে হবে।

ইথিওপীয় এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ব্যক্তি যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নাও হন তারপরও তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করার এখতিয়ার রাখে। সে অনুযায়ী, ইথিওপীয় বিমান বিধ্বস্তে নিহত রুয়ান্ডান নাগরিক জ্যাকসন মুসোনির তিন শিশু সন্তান মামলাটি দায়ের করেছে। তারা বর্তমানে বেলজিয়ামে বসবাস করছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here