অস্ত্রোপচার শেষে শনিবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরেছেন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোশাররফ হোসেন রুবেল। গেল ১৯ মার্চ সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। বায়োপসি রিপোর্টও এসেছে পজিটিভি। ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত এই পারফরমারের টিউমারের ক্যানসারের কোনো জীবাণু পাওয়া যায়নি।

অস্ত্রোপচার সফল হলেও এখনো শঙ্কামুক্ত নন রুবেল। তবে কেমো এবং রেডিওথেরাপি দেওয়ার জন্য আগামী মাসে আরও একবার সিঙ্গাপুর যেতে হবে তাকে। এখানেই শেষ নয়। প্রত্যেক মাসে নিয়ম করে থেরাপি দিতে হবে বাঁহাতি এই স্পিনারকে, যেন তার টিউমার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। এমনটা জানিয়েছেন তার স্ত্রী চৈতী ফারহানা।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্যানসারের জীবাণু নেই, কিন্তু তার (রুবেল) যে টিউমারটা হয়েছে- সেটার গ্রোথ এতটাই বেশি ছিল যে, ছয় মাসে ৩০টি রেডিওথেরাপি ও ৫০টি কেমোথেরাপি দিতে হবে। থেরাপিগুলো দেওয়ার পর এমআরআই করানো হবে। সেই রিপোর্ট দেখে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেবেন চিকিৎসকরা। তাই আগামী ছয় মাস অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

অস্ত্রোপচার শেষে কাল দেশে ফিরলেও সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে আবারও রুবেলকে নিয়ে সিঙ্গাপুর যেতে হবে জানিয়ে তার স্ত্রী বলেন, ‘অস্ত্রোপচার করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে টিউমারটা। তবে যেটা বললাম, যে টিউমারটা ছিল, ওটা খুব দ্রুত বাড়ছিল। এ জন্য রেডিওথেরাপি আর কেমোথেরাপির মধ্য দিয়ে যেতেই হবে। না হলে ওটা আবার ফিরে আসতে পারে। টিউমারটা এমন, রেডিওথেরাপি-কেমোথেরাপি না দিলে ফিরে আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি, ১৬ এপ্রিল থেকে আমরা থেরাপি শুরু করতে পারব। সিঙ্গাপুরেই করাব। যে রেডিওথেরাপিটা দেওয়া হবে, সেটা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথেই আছে। কেমোথেরাপিটাও এখানে অনেক উন্নত। টানা দেড় মাস করতে হবে। সপ্তাহে পাঁচ দিন করে করতে হবে। এরপর তিন সপ্তাহ বিরতি দিয়ে আবার শুরু করতে হবে। এভাবেই ছয় মাস চলবে। জীবাণু একেবারে ধ্বংস করে দিতে হবে। আশা করি, ছয় মাসে থেরাপি দিলে সেটি হয়ে যাবে।’

টিউমারের অস্ত্রোপচারে ইতোমধ্যেই প্রায় ৩৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে মোশাররফ রুবেলের। অত্যাধুনিক ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল থেরাপিতে লাগবে আরও অন্তত ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা। তবে স্বস্তির খবর, টিউমারের খবর শুনেই তার পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা।

কথা বলতে এখনো কষ্ট হলেও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুল করেননি রুবেল। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ফ্র্যাঞ্চাইজি, কামাল ভাই (অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল), নাফিসা কামাল (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের চেয়ারম্যান), সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটার, সংগঠক, ভক্ত-সমর্থকরা আমার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছেন। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here