পাহাড়প্রমাণ ২৩২ রানের লক্ষ্যমাত্রা চাপিয়ে দিতেই জয় একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে যায় সানরাইজার্সের। কিন্তু ব্যাঙ্গালোরের এমন তারকাখোচিত ব্যাটিং লাইন আপ যে এভাবে আত্মসমর্পণ করবে ভাবেননি অতি বড় ক্রিকেট অনুরাগীরাও। কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সকে ১১৮ রানের বিরাট ব্যবধানে হারিয়ে চলতি আইপিএলে দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। অন্যদিকে লজ্জার হারে তৃতীয় ম্যাচ পরও জয় অধরা রয়ে গেল কোহলি-ডি’ভিলিয়ার্সদের।

টসে জিতে এদিন প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আরসিবি অধিনায়ক বিরাট কোহলি। কিন্তু শুরু থেকেই কার্যত কোহলির সেই সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করে দিতে থাকেন দুই সানরাইজার্স ওপেনার বেয়ারস্টো-ওয়ার্নার। আরসিবি বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা শুরু করেন সানরাইজার্সের ইংরেজ-অজি ওপেনিং পেয়ার। প্রথম দু’ম্যাচেও ওপেনিংয়ে শতরানের গন্ডি পেরিয়েছিলেন এই দুই ব্যাটসম্যান। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে সমস্তকিছু ছাপিয়ে স্বমহিমায় ভাস্বর হয়ে উঠলেন বেয়ারস্টো-ওয়ার্নার।

৫৬ বলে বেয়ারস্টোর ১১৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস সাজানো ছিল ১২টি চার ও ৭টি ছয়ে। ১৭ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে চলতি আইপিএলের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করে ইংরেজ ব্যাটসম্যান যখন আউট হলেন, দলের রান তখন ১৮৫। তানা তৃতীয় অর্ধশতরান পূর্ণ করলেও ওয়ার্নার শতরান পাবেন কিনা, নিশ্চিত ছিলেন না স্টেডিয়ামে উপস্থিত অনুরাগীরা। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা বিজয় শঙ্কর ৩ বলে ৯ রান করে ফিরে গেলেও ইউসুফ পাঠানকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ শতরান পূর্ন করেন ওয়ার্নার। শেষ অবধি ৫৫ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে পাহাড়প্রমাণ ২৩১ রানে পৌঁছে দেন ওয়ার্নার। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ৫টি চার ও ৫টি ছয়ে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে একসময় নিজেদের নজির ছাপিয়েই ফের সর্বনিম্ন রানের ভ্রূকুটি গ্রাস করে ব্যাঙ্গালোর ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। একে একে ফিরে যান কোহলি-ডি’ভিলিয়ার্স সহ ব্যাঙ্গালোরের প্রথম ছয় ব্যাটসম্যান। কোহলি ফেরেন ৩ রানে। এবিডির সংগ্রহে মাত্র ১ রান। এরপর সপ্তম উইকেটে গ্র্যান্ডহোম ও অভিষেককারী প্রয়াসের ৫১ রানের পার্টনারশিপ লজ্জার হাত থেকে বাঁচায় কোহলি অ্যান্ড কোম্পানিকে। এরপর ব্যাট হাতে উমেশ যাদবের সামান্য অবদানে ১০০ রানের গন্ডি টপকায় কোহলির দল।

হায়দরাবাদ বোলারদের দুরন্ত পারফরম্যান্সের সামনে শেষ অবধি ৯ উইকেটে মাত্র ১১৩ রান তুলতে সমর্থ হয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স। ব্যাট হাতে বেয়ারস্টো-ওয়ার্নার তো ছিলেনই। হায়দরাবাদের ১১৮ রানের বিরাট জয়ে বল হাতে ভূমিকা নেন বোলাররাও। ১১ রানে ৪ উইকেট নেন মহম্মদ নবি। মাত্র ১৯ রান খরচ করে ৩ উইকেট নেন সন্দীপ শর্মা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here