কোনো মানুষের পক্ষে কখনোই সবদিক দিয়ে পূর্ণাঙ্গ, সফল এবং ভালো হতে পারেনা। শত চেষ্টাতেও সেটা সম্ভব নয়। কেউ কেউ হয়তো কারও থেকে একটু সফল বা স্বভাব এবং চরিত্রগত দিক থেকে উন্নত হতে পারে। আবার এটাও মনে রাখতে হবে যে কোনো ব্যক্তিই আরেকজনের মতো না, অর্থাৎ সবাই একরকম হয়না। আর তাই একজনের সঙ্গে আরেকজনের তুলনা করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় আমাদের মধ্যে।

এটা খুবই ভয়ঙ্কর অভ্যাস, এবং এর ফলাফলও ভয়ঙ্কর। বিশেষ করে একটা ভালোবাসার সম্পর্কে একজন যখন অন্য একজনের সঙ্গে সঙ্গীকে কারণে-অকারণে তুলনা করে- সম্পর্কের মাত্রা তখন আর স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকেনা। সুখ-শান্তি নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া এই স্বভাবটি যার মধ্যে আছে তাকে পছন্দ তো দুরের কথা একেবারেই সহ্য করতে চায় না মেয়েরা।

কীভাবে তুলনা:

১. সঙ্গী দুজনের মধ্যে কে বেশি ভালো, কে কম ভালো এটা নিয়ে প্রায়ই ঝামেলা হয়। সময়ের সঙ্গে জীবনের প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। তাই সম্পর্ক ভালো রাখার তাগিদে এগুলো মাথায় রেখে চলুন।

২. যত বেশি তুলনা করা হবে সম্পর্কে ততই টান পড়তে থাকবে। এতে করে বড় ধরনের দুর্ঘটনা, সম্পর্কের অবনতি এমনকি বিচ্ছেদের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।

৩. খুব কাছের বন্ধু বা নতুন বান্ধবীর সঙ্গে তুলনা করা হলে সেটা মেনে নেওয়া কঠিন। এতে করে সঙ্গীর মনের মধ্যে হীনমন্যতা তৈরি হবে। আবার সন্তানের জন্য কে কত বেশি কাজ করেছে, তা নিয়ে তুলনা করে নষ্ট হয়েছে অনেক দম্পতির সম্পর্ক।

৪. ভালোবাসার সম্পর্ক ছাড়াও অন্য অনেক ক্ষেত্রে এমনটা হয়। স্কুলে কার হাতের লেখা বেশি ভালো, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মায়ের মধ্যে তুলনার লড়াই হয়। এ রেষারেষির ফলে দুই মায়ের মধ্যে মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলনা টানলে আসলে এক জনকে উপরে তুলতে গিয়ে অন্য জনকে নীচে নামানো হয়ে যায়। তা কারোর পক্ষেই ভালো লাগে না। ছোটদের ক্ষেত্রে তা মানসিক বিকাশের জন্য অতি ক্ষতিকর। এর কারণে সম্পর্কই নষ্ট হয় না, হতে পারে বড় ক্ষতি। অন্যদের সঙ্গে বার বার তুলনা করা যে কোনো মানুষের মধ্যে হিংসা ঢোকে। বড় হয়ে যা কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে বড় বাধা হতে পারে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here