ঢাকা ওয়াসার ‘সুপেয় পানির’ শরবত খাওয়ানোর জন্য মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকাল থেকেই রাজধানীর জুরাইনের কয়েকজন অধিবাসী কারওয়ান বাজারে ওয়াসা ভবনে আসেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ভেতরে ঢুকতে না দিলে তারা ভবনের বিপরীত পাশে অবস্থান নেন। পরে অফিসের ভেতরে প্রবেশ করতে পারলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের সাক্ষাৎ পাননি বলে জানিয়েছেন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া মিজানুর রহমান।

 তিনি জানান, এমডি বাইরে অন্য কাজে ব্যস্ত আছেন। তাই তিনি অফিসে এসে পৌঁছেতে পারেন নি।

ভেতরে ওয়াসার কারিগরি বিভাগের পরিচালকের সঙ্গে এলাকাবাসীর বাকবিতণ্ডা হয়। দু’পক্ষের তর্ক-বিতর্কের পর মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের পানিকে তারা অস্বীকার করেছে। তাদের মতে আমরা যে পানি নিয়ে এসেছি, সেটা ওয়াসার পানি না। এসময় আমরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলেও তারা সেটা গ্রহণ করেননি। তাই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আমরা আজকে যা ঘটেছে তা ভুক্তভোগীদের জানাবো। এরপর আমাদের যে প্রাপ্য অধিকার আছে, সেটা ফিরে পেতে আরো বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তুলবো।

এসময় তিনি আরো বলেন, তারা শরবত খেতে চাননি, কারণ তারা আমাদের পানিকে দূষিত বলছে।

এদিকে সুপেয় পানি নিয়ে ক্ষুব্ধ নগরবাসীর অভিযোগের ব্যাপারে ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, তাদের অভিযোগ খুবই ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের পানির লাইন চেক করে সমস্যা সমাধানে আজ থেকেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত ২০ এপ্রিল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান দাবি করে বলেছেন, ওয়াসা থেকে সরবরাহকৃত পানি শতভাগ সুপেয় এবং শুধু শুধু তা ফুটিয়ে খেয়ে নগরবাসী গ্যাসের অপচয় করছেন। তবে জুরাইনবাসীর দাবি, তাদের এলাকায় সাপ্লাই হওয়া ওয়াসার পানিতে ময়লা এবং দুর্গন্ধযুক্ত। আর তাই এমডির বক্তব্যের প্রতিবাদে তাকে ওই পানি দিয়ে শরবত বানিয়ে খাওয়ানোর জন্য ওয়াসা ভবনে হাজির হয় তারা। সঙ্গে ওই পানি এবং শরবত বানানোর আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রও নিয়ে আসেন তারা।

এ সময় তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত জুরাইনবাসীর প্রত্যেকের বাসায় ওয়াসার লাইন থেকে ড্রেনের মতো ময়লা পানি আসছে। যা ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। তাই এখন তারা টাকা দিয়ে কিনে পানি ব্যবহার করছেন বলেও দাবি করেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here