প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার মসজিদে খুতবার আগে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আলোচনা করতে ইমামদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের সবাইকে আহ্বান করবো জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সারা দেশের প্রতিটি মসজিদে জুম্মার খুতবায় স্পষ্টভাবে কথা বলুন। সঠিকভাবে জনগণের সামনে ইসলামকে তুলে ধরুন। ইসলাম যে শান্তির ধর্ম, সে বিষয় উপস্থাপন করুন।

বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিরতিহীন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ নিজ এলাকার কোনো সন্দেহভাজন জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শিক্ষক, ছাত্র, অভিভাবক,  জন প্রতিনিধি ও মসজিদের ইমামসহ সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইসলাম শান্তি ও মানবতার ধর্ম। যারা ইসলাম ধর্মের নাম করে সন্ত্রাসবাদী কাজ করছে তারা ইসলাম ধর্মেরই ক্ষতি করছে। সুতরাং যারা এই ধরনের নিষ্ঠুর কার্যক্রমে জড়িত তাদের থেকে দূরে এবং সতর্ক  থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশেও সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা চলছে, কিন্তু আমাদের গোয়েন্দা বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এসময় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরী শ্রীংলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

জঙ্গি তৎপরতা ও তাদের হামলা বিষয়ে জনগণ, দেশের গোয়েন্দা বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শুধু গোয়েন্দারা নয়, জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে কারা সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদে জড়িত তাদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করানো। কারণ, আমরা দেশে শান্তি চাই।

যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতুতে নতুন করে আরেকটি রেল সংযোগ করে দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের এই প্রস্তাবের কথা। একইসঙ্গে খোঁচা দিতেও ছাড়লেন না সংস্থাটিকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেল সংযোগ দিতে গিয়ে যাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আমাকে কথা বলতে হয়েছিল, সেটা হলো বিশ্বব্যাংক। আর তারা এখন আমাদের নতুনভাবে প্রস্তাব দিয়েছে, সেতুর সঙ্গে যে রেল আছে, সেটা ছাড়াও আলাদা করে একটা রেল সেতু যমুনা নদীর ওপর করে দিতে চায়। এত দিন পরে তারা বুঝল যে এটার প্রয়োজন কত বেশি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটা আমাদের। আমরা যতটা আমাদের দেশের ভালো বুঝব, বাইরে থেকে হঠাৎ হঠাৎ কেউ এসে কেউ কখনো বুঝবে না— এটাই বাস্তবতা।’

সারাদেশে রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৪ সালে ফিজিবিলিটি স্টাডি করে জাপান। কিন্তু ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টের ঘটনার কারণে জাতির পিতা আর তা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। যাই হোক, পরবর্তী সময়ে যখন এই সেতুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়, তখন এর সঙ্গে রেল সংযোগটা আমি সংযুক্ত করে দিয়েছিলাম। যদিও এটা নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল। বিশেষ করে যারা অর্থ দেবে, সেই ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এটার ঘোর আপত্তি জানিয়েছিল। তারা বলেছিল, এটা কখনো লাভজনক হবে না।’

‘আমার কথা ছিল যে, এটাই লাভজনক হবে এবং এই লাভ থেকেই এ সেতু কার্যকর হবে। তখন ডিজাইন প্রায় হয়ে গিয়েছিল। সেই অবস্থায় আমরা কিন্তু রেললাইন সংযুক্ত করি এবং সেভাবে বাস্তবায়ন করি। এর শুভ ফলটা পেয়েছে উত্তরবঙ্গের মানুষ।’, যোগ করেন শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু সেতুর কারণে পণ্য পরিবহন থেকে মানুষের যাতায়াত সুযোগ-সুবিধা তৈরিসহ গোটা অঞ্চলের মানুষের উপকারভোগী হওয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমার মনে আছে, আমরা যখন যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধন করলাম, এই উদ্বোধনের পরপর ১৯৯৮ সালে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিল। এই বন্যা মোকাবিলা অত্যন্ত কঠিন ছিল। কিন্তু এই সেতুটা হওয়ার ফলে উত্তরবঙ্গের যেসব অঞ্চলে বন্যা হয়নি, সেখান থেকে পণ্য পরিবহন করে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মাঝে খাদ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। কারণ নদী তখন প্রচণ্ড খরস্রোতা ছিল। এই সেতুটা ছিল বলে আমাদের পক্ষে এটা সম্ভব হয়েছিল। আর রেল সেখানে বিরাট ভূমিকা রেখেছিল।’

দেশে রেল যোগাযোগ আরও উন্নতমানের করতে চান বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যেন পুরো দেশের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগটা ভালো হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here