মার্কিন সরকার পরমাণু সমঝোতার ভিত্তিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে দেয়া ছাড় প্রত্যাহার করে নেয়ায় দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি এবং ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শনিবার এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে তাদের ওই উদ্বেগের কথা জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ইরানের পরমাণু সমঝোতা এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের ভিত্তিতে তেহরানকে ওইসব ছাড় দেয়া হয়েছিল যা আন্তর্জাতিক আইনে ইরানের প্রাপ্য।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ তার ১৪টি প্রতিবেদনে একথার সত্যতা নিশ্চিত করেছে যে, ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করছে। কাজেই এর বিপরীতে ইরানকেও তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

মার্কিন সরকার শুক্রবার রাতে পরমাণু সমঝোতা ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে দেয়া তিনটি ছাড় প্রত্যাহার করে নেয়। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের বুশেহর পরমাণু প্রকল্পের বর্তমান চুল্লির বাইরে অন্য কোনো প্রকল্পে কোনো দেশ তেহরানকে সহযোগিতা করতে পারবে না। এ ছাড়া, প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামের পরিবর্তে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে স্থানান্তর প্রক্রিয়াও এখন থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে। এ ছাড়া, ইরানে উৎপাদিত ভারী পানি আর মজুদ করা যাবে না।

ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি ওই মার্কিন পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, শত্রু  যে পদক্ষেপই নিক না কেন চূড়ান্তভাবে তা ইরানের স্বার্থ রক্ষা করে। সব রকমের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের পরমাণু শিল্প শক্তিমত্তার সঙ্গে সামনে এগিয়ে যাবে বলে তিনি দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here