শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা প্রান্তে পদ্মা সেতুতে ১২তম স্প্যান বসানো হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সেতুর ২০ ও ২১ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যানটি বসানো হয়। এর ফলে দৃশ্যমান হলো সেতুর এক হাজার ৮০০ মিটার।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মুরাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে মাওয়া কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ধূসর রংয়ের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের ‘৫-এফ’ স্প্যানটিকে বহন করে নিয়ে আসে ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ক্রেন।

আবহাওয়া আর ভাসমান ক্রেনটির অ্যাংকরিংসহ সবকিছু অনুকূলে থাকায় কোনো রকম জটিলতা ছাড়াই সফলভাবে স্প্যানটি বসানো হয় পিলারের ওপর। দুই পিলারের মধ্যবর্তী সুবিধাজনক স্থানে এনে ভাসমান ক্রেনটিকে নোঙর করা হয়।

এরপর পজিশনিং করে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে স্প্যানটিকে তোলা হয় পিলারের উচ্চতায়। রাখা হয় দুই পিলারের বেয়ারিং এর ওপর। স্প্যান বসানোর জন্য উপযোগী সময় থাকায় এবং যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে হওয়ায় প্রকৌশলীরা আজই স্প্যান বসাতে সক্ষম হন। খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আগে থেকেই বিশেষজ্ঞ প্যানেল দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হয়। ওয়েট টেস্ট, ট্রায়াল লোড টেস্ট, বেজ প্লেট, পাইল পজিশন, মেজারমেন্টসহ আনুষাঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ।

পদ্মাসেতুর উপ-সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর গণমাধ্যমকে বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টা ২০ মিনিটে ২০ ও ২১ নম্বর পিলারের ওপর দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের চেষ্টায় ‘৫-এফ’ স্প্যানটি বসানো হয়।

দ্বাদশ স্প্যানটি বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ১৮০০ মিটার। মোট ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৬২টি পাইল ড্রাইভ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৩২টি পাইল ড্রাইভ এর কাজ চলমান আছে। ৪২টি পিলারের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হয়েছে ২৫টি পিলারের। বাকি ১৭টি পিলারের কাজও চলমান আছে।

শরীয়তপুরের জাজিরায় এখন দশটি পিলারে (৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২) ৯টি স্প্যান। এছাড়া মাওয়া প্রান্তে (১৩, ১৪ ও ৪, ৫) চারটি পিলারে একটি স্থায়ী স্প্যান ও একটি অস্থায়ী স্প্যান বসানো হয়েছে। আর আজ মাঝপদ্মায় (মাওয়া ও জাজিরা) বসানো হলো আরো একটি অস্থায়ী স্প্যান।

শুক্রবার (৩ মে) স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা থাকলেও ঘূর্ণিঝড় ফণির কারণে তা বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

পদ্মাসেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here