প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ‘এ’ বা উলভসের কাছে হারার পর অনেকের মাঝে গেল গেল রব উঠেছিল। ওই ম্যাচে না খেলা মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগে ‘মূল ম্যাচ’ এর কথা বলেছিলেন। আর সেই ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের উড়িয়ে দেওয়ার পরও সতর্ক বাংলাদেশ অধিনায়ক।

সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড। ডাবলিনে বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এই লড়াইয়ে জয় পেলে সিরিজে ফাইনাল খেলা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলবে মাশরাফীবাহিনী। অন্যদিকে উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পাত্তা না পাওয়া আইরিশদের জন্য এটা অস্তিত্ব রক্ষার ম্যাচ।

প্রস্তুতি ম্যাচে হারের ধাক্কা কাটিয়ে বাংলাদেশ যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তাতে সবার প্রশংসা কেড়েছে তারা। অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ছিল ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে পাঁচ ওভার হাতে রেখে ৮ উইকেটের জয়!

সিরিজে এমন শুরুতে খুশি বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফী, “শুরুটা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ এবং আমার মনে হয় প্রস্তুতি ম্যাচে হারার পরও ছেলেরা খুব ভালো শুরু করেছে। আগামী ম্যাচের আগে এটা ভালো একটা ব্যাপার।”

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্পিনাররা শুরুর কঠিন সময়ে ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছিলেন। আর ডেথ ওভারের সময় মাশরাফীর নেতৃত্বে পেসারদের জ্বলে ওঠা ছিল নজরকাড়া। তাতে ক্যারিবিয়ানদের ইনিংসটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার মতো হতে পারেনি। এরপর আবার তামিম ইকবাল-সৌম্য সরকারের ১৪৪ রানের জুটি, তাদের ফিফটি, এরপর সাকিব আল হাসানের হার না মানা ৬১, মুশফিকুর রহিমের দাপুটে ব্যাটিং বাংলাদেশকে চাপমুক্ত এক বড় জয় এনে দেয়। যেকোনো কোচ-অধিনায়ক খেলোয়াড়দের কাছ থেকে পাওয়া এমন জয়ের চেয়ে বেশি কিছু চাইতে পারেন না।

মাশরাফীও সন্তুষ্ট। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে তৃপ্ত হয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দুর্ধর্ষ ক্যারিবিয়ানদের এমন হেসেখেলে হারানোর পরও সতর্ক মাশরাফী।

“শুরুটা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ এবং আমার মনে হয় প্রস্তুতি ম্যাচে হারার পরও ছেলেরা খুব ভালো শুরু করেছে। আগামী ম্যাচের আগে এটা ভালো একটা ব্যাপার।”

দুর্ভাবনার মধ্যে আছে মোস্তাফিজুর রহমানের খরুচে বোলিং। গেল ম্যাচে ২ উইকেট পেলেও কাটার মাস্টার ৮৪ রান দিয়েছেন। এর আগের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১০ ওভারে দিতে হয় ৯৩ রান। লাইন নিয়ে সমস্যা না থাকলেও লেন্থ নিয়ে একটা সমস্যায় ভুগছেন ‘ফিজ’। তার মতো বোলারকে আবশ্য স্বরূপে ফিরে পাওয়া এক ম্যাচের ব্যাপার বলে মানে বাংলাদেশ দল।

বুধবার বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের প্র্যাকটিস বাতিল হলো। তীব্র শীতে হোটেলে তাদের সময়টা বেশ কাটল।

এমনিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে তেমন একটা জেতে না আয়ারল্যান্ড। নয় ম্যাচের মধ্যে জেতা দুই ম্যাচের শেষ স্মৃতিটা ২০১০ সালের। কিন্তু ঘরের মাটিতে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়টা যে খুব দরকার! এই সিরিজের আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বোলিংয়ে হুমকি তৈরি করেছিল। তবে ব্যাটিংয়ে ২০০-এর নিচে শেষ। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে তো তাদের নাকের পানি চোখের জল এক হয়ে গেছে। দুই ওপেনার মিলে পার্টনারশিপের বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন বোলারদের বেদম পিটিয়ে। ১৯৬ রানে পরে হেরেছে আইরিশরা ১৮৫ রানে গুটিয়ে গিয়ে।

অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড, অভিজ্ঞ পল স্টার্লিং, অ্যান্ড্রু বালবিরনি কিংবা স্পিনার জর্জ ডকরেলরা পারফরমার। সমস্যা হলো, পারফরম্যান্সটা দেখানো হয়ে উঠছে না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকে হইচই ফেলে দেওয়া টিনএজার ফাস্ট বোলার জশ লিটলও প্রভাব রাখতে পারেননি শেষ ম্যাচে। তারপরও আইরিশরা হাল ছাড়ার পাত্র নয়। কিন্তু তাদের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ যে এর মধ্যে দারুণ একটা শুরু পেয়ে গেছে! বিশ্বকাপের প্রস্তুতির আসরে তারা যে আরও ভালোর দিকে ছোটাকেই আসল লক্ষ্য করেছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here