জিতলেই ফাইনাল—এই সমীকরণ সামনে রেখে ডাবলিনের ম্যালাহাইডে নেমেছিল বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে সমীকরণটা সহজেই মিলিয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপের আগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা টাইগাররা। মোস্তাফিজুর রহমান ও মাশরাফি বিন মুর্তজার বিধ্বংসী বোলিংয়ের পর মুশফিকুর রহিম ও সৌম্য সরকারের হাফসেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৫ উইকেটের জয়।

আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে এই ‍ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই খেলবে বাংলাদেশ। শুক্রবার শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে ডাবলিনেই মুখোমুখি হবে দল দুটি। এর আগে অবশ্য রবিন রাউন্ড লিগের ফিরতি খেলায় বুধবার মাশরাফিরা নামবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।

আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৪৭ রান করেছিল উইন্ডিজ। জবাবে ১৬ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।

এই জয়ে সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত হলো টাইগারদের। আগেই ফাইনাল নিশ্চিত ছিল উইন্ডিজের। ফলে আয়ারল্যান্ডের সব আশা শেষ হয়ে গেল। বুধবার বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচটি এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকার।

এনিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ তিন ম্যাচের সবকটিতে জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। গেল বছর উইন্ডিজের মাটিতে সিরিজ ও বাংলাদেশের মাটিতে হওয়া সিরিজ হিসেব করলে ৮ ম্যাচের ৬টিতে জয় মাশরাফীর দলের।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার দারুণ শুরু এনে দলকে। উদ্বোধনী জুটিতে ৮.৪ ওভারে দুজন যোগ করেন ৫৪ রান। অ্যাশলে নার্সের বলে তামিম পরাস্ত হলে দুজনের জুটি ভাঙে। ২৩ বলে ৪ চারে ২১ রান করেন তামিম।

তবে সৌম্য সিরিজে টানা দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন। ৬৭ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৫৪ রান করেন এই বাঁ-হাতি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার নবম ফিফটি।

তামিম ফেরার পর সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ৫২ রানের জুটি হয় সৌম্যর। আগের ম্যাচে ফিফটি পাওয়া সাকিব এদিনও দারুণ শুরু পেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত নার্সের বলেই দুজন ফিরেছেন।

২১তম ওভারে এক বলের ব্যবধানে সাকিব ও সৌম্যকে ফেরান নার্স। ৩৫ বলে ৩ চারে ২৯ রান করেন সাকিব। এর আগে বল হাতেও দারুণ বোলিং করেছেন। কৃপন বোলিংয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট।

সাকিব ও সৌম্যকে ফিরিয়ে উইন্ডিজ ম্যাচে ফেরার আভাস দিলেও মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন দলকে ফের কক্ষপথে আনেন। মিঠুন ৫৩ বলে ৪৩ রান করেছেন ২টি করে চার ও ছক্কায়। হোল্ডারের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।

এর মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ পঞ্চম উইকেট জুটি বাংলাদেশেকে নিয়ে যায় জয়ের কাছে। দুজনে যোগ করেন ঠিক ৫০ রান। মুশফিক ধৈর্য হারা হয়ে ফিরেছেন জয় থেকে ঠিক ৮ রান দূরে থাকতে।

তবে ক্যারিয়ারের ৩৩তম ফিফটি তুলে নিয়েছেন তিনি। ৭৩ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৬৩ রান।

সাব্বিরকে নিয়ে বাকী কাজ সেরেছেন মাহমুদউল্লাহ। ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। সাব্বির অবশ্য স্টাইক নেওয়ার সুযোগই পাননি।

এর আগে বোলিংয়ের গল্পটার মোস্তাফিজুর রহমান ও মাশরাফী বিন মোত্র্তজার। সংখ্যার কথা বিবেচনা করলে হয়তো মোস্তাফিজ এগিয়ে থাকবেন। ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তবে মাশরাফী নিয়েছেন ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ৩ উইকেট।

সুনীল আমব্রিচকে ফিরিয়ে উইকেট উৎসব শুরু করেন মাশরাফী। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোস্তফিজের আঘাতে ৯৯ রানে ৪ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। তবে শাই হোপ ও জেসন হোল্ডারের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল উইন্ডিজ। ঠিক সেই সময় দুজনকেই ফিরিয়েছেন মাশরাফী।

বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের তিন ম্যাচে সেঞ্চুরি পাওয়া হোপ এদিন ৮৭ রান করেছেন। ১০৮ বলের ইনিংসে ৬টি চারের সঙ্গে মেরেছেন ১ ছক্কা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬২ রান আসে হোল্ডারের ব্যাট থেকে।

ছন্দ হারিয়েছেন বলে মোস্তাফিজকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল শঙ্কা। এদিন যা উড়িয়ে দিয়েছেন কাটার মাস্টার নিজেই। ৯ ওভার বল করে ৪ উইকেট নিতে তিনি খরচ করেন ৪৩ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ৫ উইকেটে জয়ী বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস: ২৪৭/৯ (৫০ ওভার)

(শাই হোপ ৮৭, সুনিল আমব্রিস ২৩, ড্যারেন ব্রাভো ৬, রস্টন চেজ ১৯, জনাথন কার্টার ৩, জ্যাসন হোল্ডার ৬২, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন ৭, অ্যাশলে নার্স ১৪, রেমন রেইফার ৭, কেমার রোচ ৩*, শেল্ডন কটরেল ৮*; আবু জায়েদ রাহি ০/৫৬, মাশরাফি বিন মর্তুজা ৩/৬০, মেহেদী হাসান মিরাজ ১/৪১, মোস্তাফিজুর রহমান ৪/৪৩, সাকিব আল হাসান ১/২৭, সৌম্য সরকার ০/১৫)।

বাংলাদেশ ইনিংস:২৪৮/৫ (৪৭.২ ওভার)

(তামিম ইকবাল ২১, সৌম্য সরকার ৫৪, সাকিব আল হাসান ২৯, মুশফিকুর রহিম ৬৩, মোহাম্মদ মিথুন ৪৩, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৩০*, সাব্বির রহমান ০*; কেমার রোচ ১/৪৬, শেল্ডন কটরেল ০/৩৮, অ্যাশলে নার্স ৩/৫৩, রস্টন চেজ ০/২৪, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন ০/১১, জ্যাসন হোল্ডার ১/৪৩, রেমন রেইফার ০/৩১)।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: মোস্তাফিজুর রহমান (বাংলাদেশ)।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here