ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ তার পক্ষ থেকে উত্থাপিত ‘টিম-বি’ তত্ত্বের পুনরুল্লেখ করে বলেছেন, এই টিমের অর্ধেক সদস্য ইরাকের বিপর্যয়কর যুদ্ধের অপরাধী। তিনি আজ নিজের অফিসিয়াল টুইটার পেজে দেয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন।

জারিফ তার টুইটার বার্তায় ২০০২ সালে মার্কিন কংগ্রেসে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দেয়া এক বক্তব্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ওই বক্তব্যে নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, ইরাকের তৎকালীন সাদ্দাম সরকারের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে। কিন্তু পরবর্তীতে ইরাকের ওপর ভয়াবহ যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে সাদ্দাম সরকারের পতনের পর কথিত সে অস্ত্রের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ওই মিথ্যা দাবির ভিত্তিতে ২০০৩ সালে ইরাকের ওপর চাপিয়ে দেয়া মার্কিন যুদ্ধে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়। পরবর্তীতে ইরাকে উগ্র জঙ্গী গোষ্ঠী দায়েশের উত্থান হয় এবং আজো সে যুদ্ধের বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা বাগদাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। আমেরিকার বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ওই যুদ্ধের একজন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শদাতা ছিলেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার টুইটার বার্তায় আরো বলেন, “এখন যা কিছু ঘটছে তাও আমি গতমাসে বলে দিয়েছিলাম। এর অর্থ এই নয় যে, আমি অনেক বড় জ্ঞানী মানুষ বরং ‘টিম-বি’র এ ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ কাজ করার ইতিহাস রয়েছে বলে আমি একথা বলতে পেরেছিলাম।”

জারিফ এপ্রিল মাসে নিউ ইয়র্ক সফরে গিয়ে মার্কিন নিউজ চ্যানেল ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইংরেজি ‘বি’ আদ্যাক্ষরের চার ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বলেন, এই ‘টিম-বি’র সদস্যরা আমেরিকাকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে চান। জারিফের ভাষায় টিম-বি’র ওই চার সদস্য হলেন, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সৌদি যুবরাজ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ বিন জায়েদ।  জারিফ বলেন, টিম-বি’র প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবেন বলে তিনি মনে করেন না।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here