আবারো পাকিস্তান-ইংল্যান্ডের রান উৎসব দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। এই উৎসবে অবশ্য জয়ী ইংল্যান্ড। প্রথমে ব‌্যাট করে ইংলিশ বোলারদের কচুকাটা করে ৩৫৮ রান তোলে সফরকারী পাকিস্তান।

কিন্তু সেই রান অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে পেরিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতল। তুলে নিল ৬ উইকেটের বড় জয়। তাও হাতে ৩১ বল রেখে।

গত বিশ্বকাপের পর থেকে তিনশ রানকে ডাল-ভাত বানিয়ে ফেলা ইংল্যান্ড আবার দেখিয়েছে তাদের ব্যাটিং সামর্থ্য। জনি বেয়ারস্টোর সেঞ্চুরিতে সাড়ে তিনশ ছাড়ানো রান তাড়ায় হেসেখেলে জিতেছে ইয়ান মর্গ্যানের দল।

প্রথম ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে। পরের দুটিতে জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। ওয়ানডেতে এর চেয়ে বড় রান তাড়া করে জয় আছে ইংল্যান্ডের কেবল একটি। চলতি বছরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিতেছিল ৩৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে।

ব্রিস্টলে মঙ্গলবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ক্রিস ওকসের ছোবলে শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। ফখর জামানকে বিদায় করার পর বাবর আজমের উইকেট তুলে নেন ইংলিশ অলরাউন্ডার।

এক প্রান্ত আগলে রাখা ইমামের সঙ্গে দুটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি গড়ে ফিরে যান হারিস সোহেল ও সরফরাজ আহমেদ। রানের গতিতে দম দেওয়ার কাজটা করে পঞ্চম উইকেট জুটি। ইমামের সঙ্গে ১২৫ রানের জুটি উপহার দেন আসিফ আলি। টানা দ্বিতীয় ফিফটি পাওয়া এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ৪৩ বলে ফিরেন ৫২ রান করে।

একটু মন্থর শুরু করা ইমাম শেষের দিকে তোলেন ঝড়। ২৭ ম্যাচের ছোট্ট ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ সেঞ্চুরি পাওয়া বাঁহাতি এই ওপেনার ফিরেন ১৩১ বলে ১৬ চার ও এক ছক্কায় ১৫১ রান করে। ওয়ানডেতে তার আগের সেরা ছিল ১২৮।

শেষের দিকে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের টুকটাক অবদানে সাড়ে তিনশ ছাড়ায় পাকিস্তানের সংগ্রহ। বড় রান তাড়ায় ইংল্যান্ডকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন জেসন রয় ও বেয়ারস্টো। শুরু থেকে বোলারদের ওপর চড়াও হন দুই ব্যাটসম্যান। দ্রুত জমে যায় জুটি। রান আসতে থাকে বানের স্রোতের মতো। ১০৫ বলে ১৫৯ রানের শুরুর জুটি ভাঙে রয়ের বিদায়ে। ছন্দে থাকা এই ওপেনার ৫৫ বলে আট চার ও এক ছক্কায় করেন ৭৬ রান।

ইংল্যান্ড ব্যাটিং লাইনআপের সবচেয়ে শান্ত ব্যাটসম্যান জো রুটকে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন বেয়ারস্টো। ৩৬ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়া এই ওপেনার ৭৪ বলে তুলে নেন সপ্তম সেঞ্চুরি। জুনাইদ খানের স্টাম্পের বাইরের বল টেনে এনে বোল্ড হয়ে থামেন বেয়ারস্টো। ৯৩ বলে খেলা তার ১২৮ রানের বিস্ফোরক ইনিংস গড়া ১৫ চার ও পাঁচ ছক্কায়।

৩৬ বলে ৪৩ রান করা রুটকে থামান ইমাদ ওয়াসিম। ব্যাটিংয়ের সুযোগ করে দিতে প্রমোশন দিয়ে চার নম্বরে পাঠানো হয় বেন স্টোকসকে, পাঁচে মইন আলিকে। দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ৪৬ রানের জুটি ভাঙে স্টোকসের রান আউটে। মর্গ্যানকে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন মইন। ৩৬ বলে ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here