ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সেনাবাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবারের ওই সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে তিনজন জইশ-ই-মোহাম্মদ জঙ্গি, স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী দল হিজবুল মুজাহিদিনের দুই সদস্য, দুই ভারতীয় সেনা এবং দুজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় ভারতীয় জওয়ানদের গাড়িবহরে জঙ্গি হামলার পর কাশ্মীরে একদিনে এটাই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা।

গ্রামবাসীরা জানান, বৃহস্পতিবার নিহতদের একজন রইস আহমদ দার (৩২)। তারা জানান, একটি বাড়িতে জঙ্গিরা লুকিয়ে আছে এমন সন্দেহে ভারতীয় সেনাবাহিনী তল্লাশি করতে গিয়ে প্রথমে রইসকে ভেতরে পাঠান। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা রইসকে গুলি করে হত্যা করে। এর পর দুপক্ষের সংঘর্ষ বেধে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্রোহীদের তল্লাশি করতে বেসামরিক লোকজনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, রইস দুপক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে মারা গেছেন।

এর আগে, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের বোমা হামলায় ৪০ জওয়ান নিহত হন। তারপর থেকে মুসলমান অধ্যুষিত কাশ্মীরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পুলওয়ামায় হামলার পর জঙ্গি আক্রমণ প্রতিরোধে সেনাবাহিনীকে ‘অবাধ ক্ষমতা’ দিয়েছেন। কাশ্মীরের গ্রামগুলোতে প্রতিদিনই তল্লাশি অভিযান চলছে এবং গোলাগুলির মধ্যে পড়ে বেসামরিক নাগরিকরা প্রাণ হারাচ্ছেন।

এদিকে সংঘর্ষের হতাহতের প্রতিবাদে স্থানীয় রাজনৈতিক দল ‘দ্য জয়েন্ট রেজিস্ট্যান্স লিয়ারশিপ’ (জেআরএল) শুক্রবার কাশ্মীরজুড়ে ধর্মঘট পালন করছে।

জেআরএলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমনকি পবিত্র রমজান মাসেও হত্যাকাণ্ড থামছে না। কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ, সশস্ত্র যুবাসহ ভারতীয় সেনাদের রক্ত ঝরেই চলছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here