মার্কিন গণমাধ্যমে প্রচারিত গুজবে ইরান খেই হারিয়ে ফেলেছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন সে ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ। তিনি বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের অসঙ্গতিই প্রমাণ করছে যে, তারা নিজেরাই জানে না এখন কি করতে হবে।

জারিফ শুক্রবার রাতে এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, “যখন বি-টিম এক কথা বলে এবং ট্রাম্প আরেক কথা বলেন তখন একথা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আমেরিকা জানেই না এখন কি চিন্তা করতে হবে।” ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো লিখেছেন, “কিন্তু ইরানিরা কয়েক হাজার বছর ধরে জানে তাদেরকে কি চিন্তা করতে হবে। আর আমেরিকার ব্যাপারে কি করতে হবে তা ইরানিরা ১৯৫৩ সাল থেকে (মার্কিন মদদে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইরানের নির্বাচিত মোসাদ্দেক সরকারের পতন) ভেবে রেখেছে।”

জারিফ সম্প্রতি ইংরেজি ‘বি’ আদ্যাক্ষরের চার ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বলেন, এই বি-টিমের সদস্যরা আমেরিকাকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে চান। জারিফের ভাষায় বি টিমের ওই চার সদস্য হলেন, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সৌদি যুবরাজ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ বিন জায়েদ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুক্রবার এক টুইটার বার্তায় দাবি করেন, ইরানের ব্যাপারে মার্কিন গণমাধ্যমে যেসব গুজব প্রচারিত হচ্ছে তাতে আমেরিকার ক্ষতি হলেও যে কাজের কাজটি হচ্ছে তা হলো- ইরানি কর্মকর্তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাচ্ছেন।

মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউ ইয়র্ক টাইমস গত বুধবার জানায়, ইরান সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে। একই দিন ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় ওই মতপার্থক্যের কথা স্বীকার করে বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করে বলেন, ইরানি কর্মকর্তারা শিগগিরই তার সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।

ট্রাম্প এমন সময় ওই দিবাস্বপ্নের কথা ঘোষণা করেন যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী মঙ্গলবার দেশের নীতি নির্ধারণী কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় যাবে না তেহরান।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here