উভয় দেশের মানুষের অধিকতর কল্যাণের জন্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন যুগ এবং উত্তম ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য বাংলাদেশ এবং চীনের এক সাথে কাজ করা দরকার বলে শনিবার মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং ঝু।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু আগামী বছর চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, তাই সহযোগিতা এবং কর্মপন্থার সংযোগ ও মানুষের সাথে মানুষের বন্ধন গভীর করার জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে আমাদের এক সাথে কাজ করা প্রয়োজন।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ-চীন সিল্ক রোড ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।

ফোরামের সভাপতি ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান প্রমুখ এ সময় বক্তব্য দেন।

রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং ঝু বলেন, বাংলাদেশ-চীন সিল্ক রোড ফোরাম ঠিক সময়ে যাত্রা করেছে, যখন অনেককিছু অর্জন করার রয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের কূটনৈতিক নীতি ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারোর সাথে বৈরিতা নয়’ এবং চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং-এর কূটনৈতিক চিন্তা, উভয়ে দুদেশের জন্য সমান সহযোগিতার নতুন সুযোগ করে দিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশিদের শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশ ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন এবং চীনাদের স্বপ্ন জাতীয় পুনরুজ্জীবন ব্যাপার দুটি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং এতে অনেক অভিন্ন বৈশিষ্ট রয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন ফোরাম চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের ভালো গল্প তুলে ধরতে মনোযোগ দেবে এবং দুদেশের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে গড়ে উঠবে।

ড. গওহর রিজভী তার বক্তব্যে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) গুরুত্ব এবং এতে বাংলাদেশের যোগ দেয়ার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কথা বলেন।

দিলীপ বড়ুয়া বলেন, সিল্ক রোডের ধারণাটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সর্বক্ষেত্রে দুদেশের যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, তার নেতৃত্বে ৪৯ সদস্যের ফোরাম গঠন করা হয়েছে। যেখানে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের নির্বাহী সম্পাদক শহীদুজ্জামান খান।

উল্লেখ, ঢাকার চীনা দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। ২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল বাংলাদেশ এবং চীনের প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশ ছিল সবচেয়ে বড় বাজার।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বছর প্রতি ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি ১৮ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here