শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে দেশে উন্নয়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে এক সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি সমৃদ্ধ, উন্নত ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’

মঙ্গলবার (২১ মে) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দেশের পেশাজীবীদের সঙ্গে ইফতার করার সময় তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, শান্তি ছাড়া কোনো দেশের সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ‘সরকার দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন করতে সক্ষম হয়েছে এবং এসবের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।’

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বৈশ্বিক সমস্যা। তবে বাংলাদেশে সরকার তা রোধ করতে পেরেছে।

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

দেশে যাতে শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করে সে জন্য তিনি সবাইকে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করারও আহ্বান জানান।

‘আমরা বাংলাদেশে যে উন্নয়ন শুরু করেছি তার ধারা যদি অব্যাহত রাখতে পারি তাহলে গ্রামীণ এলাকার মানুষসহ সবাই সুন্দর, সুস্থ ও সুখী জীবন পাবে। আমরা সেটা কামনা করি এবং এ জন্য কাজ করছি,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, তার সব সময়ের উদ্দেশ্য হলো দেশের মানুষকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা এবং স্বাধীনতার সুফল দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেয়া। ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে গড়ে তুলতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী তার ওপরে বিশ্বাস ও আস্থা রেখে আবারও সেবা করার সুযোগ দেয়ায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান।

স্বাধীনতার মাধ্যমে অর্জিত গৌরব যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর হারিয়ে গিয়েছিল, তা পুনরায় ফিরে পেতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমরা দেশকে বিশ্বমঞ্চে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে পারব।’

ইফতারের আগে দেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

মোনাজাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ জীবন ও সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়।

বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা ইখসানুল হক জিলানি মোনাজাত পরিচালনা করেন।

ইফতার মাহফিলে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন-বাংলাদেশ, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, আওয়ামী বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ ও সেক্টরস কমান্ডারস ফোরামসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সেই সাথে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষক, বিভিন্ন সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক ও সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, কবি, লেখক, গায়ক ও ক্রীড়াবিদরা ইফতারে অংশ

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here